এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত দল নিঃসন্দেহে কেপ ভার্দে। দলটিকে ঘিরে নানা ধরনের গল্প, এমনকি জাদুটোনার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। গোলরক্ষক ভোজিনহাকে নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে এসবের বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এটাও মনে রাখতে হবে, এবার তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা ছোট ছোট পাসে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলতে ভালোবাসে, আর এই ধরনটাই প্রতিপক্ষের ওপর শুরু থেকে চাপ সৃষ্টি করে। তারা সব সময় পরিচ্ছন্ন, ছন্দময় ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে চায়।

এই ম্যাচের আগে একটি বিষয় বেশ পরিষ্কার। লিওনেল মেসির কৌশল, দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতার সামনে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ছন্নছাড়া হয়ে পড়তে পারে। আবার মেসিকে আটকাতে অতিরিক্ত মনোযোগ দিলে লাওতারো মার্তিনেজ কিংবা হুলিয়ান আলভারেজদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে। বড় স্ট্রাইকারদের সব সময়ই গোলের ক্ষুধা থাকে। মেসি ও তার সতীর্থরা গোল না করা পর্যন্ত স্বস্তি পান না। মাঠে থাকলে শেষ মিনিট পর্যন্ত গোলের সন্ধানেই খেলতে থাকেন। মেসিকে থামাতে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা হয়তো ফাউলের পথও বেছে নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পেনালটি আদায়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে কেপ ভার্দের হারানোর তেমন কিছু নেই। তাই তারা নিশ্চয়ই চাপমুক্ত ও নির্ভার ফুটবল খেলতে চাইবে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও পেরে ওঠেনি ডিআর কঙ্গো। আসলে ইংলিশ ফুটবলের নিজস্ব একটি কৌশল ও ম্যাচ পরিচালনার দক্ষতা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার কাছেই হার মানতে হয়েছে কঙ্গোকে। হ্যারি কেইনকে ইংল্যান্ড যেভাবে কাজে লাগিয়েছে, সেটিই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে সেনেগালের ক্ষেত্রেও। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি তারা। বাস্তবতা হলো, ছোট দলগুলো অনেক সময় ম্যাচের শেষদিকে চাপ ধরে রাখতে পারে না। অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে মানসিক দুর্বলতা কাজ করতে শুরু করে। তখন মনে হয়, এই বুঝি গোল হয়ে গেল। এমন মানসিক চাপ থেকেই ভুলের জন্ম হয়।

রোমেলু লুকাকুর করা গোলটি ছিল অসাধারণ। তার মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকার বলেই এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকেও গোল বের করে আনতে পেরেছেন। সেই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বেলজিয়ামের হাতে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তারাই জয় নিশ্চিত করে। সেনেগাল মূলত শেষ মুহূর্তের মানসিক চাপ সামলাতে না পেরেই হেরেছে।