ইরানের একটি কট্টরপন্থী পত্রিকা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। লক্ষ্যবস্তু করা এই তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতারা রয়েছেন। পত্রিকাটি সাধারণত উসকানিমূলক সুরের জন্য পরিচিত।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রথম দিন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক আয়াতুল্লাহ নিহত হন। তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি এর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। গত সপ্তাহে তাঁর বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর গতকাল শনিবার নিজের প্রথম বার্তায় মোজতবা বলেন, ‘প্রতিশোধ আমাদের জাতির ইচ্ছা এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তালিকায় যেসব অপরাধীদের নাম রয়েছে, তারা বিছানায় শান্তিতে মরার ইচ্ছা নিয়েই কবরে যাবে।’

ইরানের রাজধানীর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত হামশাহরি পত্রিকা শনিবার গভীর রাতে অনলাইনে একটি ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করে। সেখানে মোজতবার বক্তব্যের পাশাপাশি ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি যুক্ত করা হয়। সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বার্তায় বলেছিলেন যে, ইরান লক্ষ্যবস্তু করা ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। তবে তিনি কোনো নাম উল্লেখ করেননি এবং পত্রিকার এই তালিকাটি সরকারিভাবে অনুমোদিত কিনা—এমন কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।

ইনফোগ্রাফিকটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ অন্য আরও নেতার ছবি রয়েছে। তবে পত্রিকার রোববারের প্রিন্ট সংস্করণে এটি প্রকাশ করা হয়নি। তালিকায় আরও রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ ম্যার্ৎজ।

যুদ্ধ চলাকালীন ইরান ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ডে হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে তারা এই হামলায় অংশীদার হয়েছে বলেও দাবি করে ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই মোজতবা খামেনেইকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। যে হামলায় তাঁর বাবা নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।