ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ইরানে বসবাসকারীরা তো অংশ নিচ্ছেনই, বিদেশ থেকে ছুটে আসছেন প্রবাসী ইরানিরাও। মাজিয়া তাদের মধ্যে একজন। খামেনির শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে ৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইরানে এসেছেন তিনি। রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাজিয়া জানান, খামেনির শোক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং নিজের মাতৃভূমির প্রতি সংহতি জানাতেই দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিয়ে ইরানে এসেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে মাজিয়া বলেন, আমি এখানে এসেছি বিশ্বকে বলতে যে ৪ হাজার বছরের পুরোনো একটি সভ্যতাকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি যদি এই সভ্যতা ধ্বংস করতে চায়, সেক্ষেত্রে সে আসলে নিজের দেশকেই ধ্বংস করতে চায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এক রাতের মধ্যে ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দিতে পারে। এছাড়া ‘মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে’-এমন মন্তব্যও প্রায় নিয়মিতই করেন তিনি। তবে মাজিয়ার মতে, ‘এই যুদ্ধ ইরানকে আরও শক্তিশালী করেছে, ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ করেছে।’ ভেনিজুয়েলার মতো ইরানের তেল দখলের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেছে উল্লেখ করে মাজিয়া বলেন, ‘যারা অন্য দেশের সম্পদ দখল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমাদের শক্তভাবে দাঁড়ানো প্রয়োজন। পশ্চিমা গণতন্ত্রের কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই। সিরিয়া, ইরাক এবং আফগানিস্তানের উদাহারণ আমাদের চোখের সামনেই আছে।’ ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
অভিযানের প্রথম দিনই তেহরানে স্ত্রী, পুত্রবধূ এবং নাতনিসহ নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৬ বছর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় খামেনির ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। খামেনি নিহত হওয়ার পর তার দেহ ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এবার তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রী সরকার। এ উপলক্ষ্যে ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ৬ দিন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শোক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ৯ জুলাই ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দাফন করা হবে খামেনিকে। তবে তার আগে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে তার জানাজা হবে।








