ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। দুদেশে ছয় দিনের এ আনুষ্ঠানিকতায় সবমিলিয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন। ইরানের কর্তৃপক্ষ এটাকে নজিরবিহীন ও মানব ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমাগম ও জানাজা বলে বর্ণনা করেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদ-এ পাঁচ শহরে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক বিদায় ও দাফন প্রক্রিয়া। এর মধ্যে কেবল ইরাকের নাজাফ ও কারবালাতেই প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সপরিবারে নিহত হন আলী খামেনি। চার মাসের বেশি সময় পর গত শুক্রবার থেকে শুরু হয় তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। তবে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শনিবার থেকে। বৃহস্পতিবার জন্মশহর মাশহাদে আলী খামেনিকে দাফন করা হয়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার মধ্যে দাফন অনুষ্ঠানে ওই শহরটি কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। খামেনির শেষ শ্রদ্ধার অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। প্রেস টিভি জানায়, কতসংখ্যক জনতা অংশ নিয়েছেন, সেটা বের করা হয়েছে প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্বাধীন বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে। যাতায়াতের রেকর্ড ও মোবাইল সিগন্যাল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মাইলের পর মাইলজুড়ে আলী খামেনির সমর্থনে লোকজন জড়ো হয়েছেন। তাদের পরনে কালো পোশাক; হাতে লাল পতাকা। নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুদেরও শ্রদ্ধা জানানোর মিছিলে দেখা গেছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় তার তিন ছেলে অংশ নেন। তবে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নিরাপত্তার কারণে এতে অনুপস্থিত ছিলেন।








