ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি থাকলেও অনুপস্থিত তার ছেলে ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। নিরাপত্তা শঙ্কাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে ইরানের প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী দাফন প্রক্রিয়া। এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। তবে এত আয়োজনের মধ্যেও অনুপস্থিত তারই ছেলে ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি।কেন মোজতবা বাবার শেষ বিদায়েও উপস্থিত হলেন না? জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি অব কাতারের সহযোগী অধ্যাপক পল মুসগ্রাভের মতে, এই অনুপস্থিতির কারণ বেশ সহজবোধ্য। তিনি বলেন, ‘ইরান ধরে নিয়েছে ইসরায়েল এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় নেতৃবৃন্দকে হত্যার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালাতে পারে। অতীতে ইরান এমন জানাজাকে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার জন্য ব্যবহার করেছে।’বিভিন্ন সূত্রমতে, ইসরায়েলি হুমকি ও গোয়েন্দা নজরদারির ঝুঁকির কারণে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে আসা ‘বিপজ্জনক’ বলে মনে করছেন ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। মোজতবাকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত’ বলেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপরই তার ছেলে মোজতবা ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি আর জনসমক্ষে আসেননি।অধ্যাপক মুসগ্রাভের মতে, ‘ইরানকে এমন একটি উপায় বের করতে হবে যেটি দেখাবে তাদের সুপ্রিম লিডার আড়ালে থাকা কোনো ব্যক্তি নয়। তিনি আসলে সেই ব্যক্তি যিনি দেশের সত্যিকার দায়িত্বে রয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদিও এ মুহূর্তে ইরানের নিরাপত্তার শঙ্কা থাকার বিষয়টি হয়ত সঠিক, কিন্তু তাদের আসলে সুপ্রিম লিডারকে প্রকাশ্যে আনতে হবে।’আলী খামেনির মরদেহ বর্তমানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই তার হোমটাউন মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।