হবিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ-সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেছেন, আমি ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। আমরা মোট ঋণের ৬ শতাংশ খেলাপি হলে ঘাবড়ে যেতাম। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ ৬১ শতাংশ। এখানে ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণভাবে বেহাল। ব্যাংকের বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ না নিলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি আশা করাটা ভুল। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী পদক্ষেপ নেবেন। আমাদের ব্যাংকিং দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যদের হাততালি দিতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে রেজা কিবরিয়া এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রেজা কিবরিয়া বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দক্ষতা খুবই কম। আমরা জনগণ থেকে ৫ শতাংশ সুদে টাকা নিই। অন্যদিকে তারা ঋণ নিতে আসলে তাদের ১৪ বা ১৬ শতাংশ সুদ দিতে বলি। এজন্যই আমাদের ব্যাংকিং খাত কার্যকর না। ব্যাংকিং খাত দক্ষ হলে যে রেটে লোক টাকা নিয়ে আসে, তার কাছাকাছি রেটে ৪ বা ৬ শতাংশ সুদে উচিত ঋণ দেওয়া। সৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছে না। আমাদের ডিফল্ট সিস্টেম। আমরা ব্যাংকের ডিফল্টের সংজ্ঞা পালটে দিয়েছি। আগে ছিল ৯০ দিন সুদ না দিলে ডিফল্টেড। কিন্তু এখন আমরা ১ বছর সুদ না দিলে ডিফল্টেড (ঋণ খেলাপি) বলি।
আলোচনার জন্য প্রথমে রেজা কিবারিয়াকে সাত মিনিট সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় সদস্য আপনাকে কত মিনিট দিলে স্বাচ্ছন্দ্যে শেষ করতে পারবেন? আপনাকে আর চার মিনিট দেওয়া হলো। এ সময় রেজা কিবরিয়া বলেন, চার মিনিট দেন। পরে আমাকে ইউটিউবে ছাড়তে হবে। রেজা কিবরিয়া বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কম রাখাটা শ্রেয়। আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট প্রত্যেক বছর কমে। কারণটা হচ্ছে, আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আমাদের মুদ্রাস্ফীতির তফাতের ওপর সবকিছু নির্ভর করে। আমাদের মুদ্রাস্ফীতি ১০ হলে এবং আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতি ৩ হলে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট সাত শতাংশ কম হবে। ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং তা জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয় প্রায় ২০ শতাংশ। তবে তিনি বাণিজ্যিক বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধ সুবিধা এবং খুবই কম সুদ হারের কারণে বাংলাদেশ বরাবরই আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ঋণ নিতে আগ্রহী। এসব ঋণের সুদের হার সাধারণত ০.৫ থেকে ১ শতাংশের মধ্যে থাকে। বিএনপির এই সংসদ-সদস্য বলেন, শুধু বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও শপিংমল নির্মাণ করলেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় না। তিনি বলেন, ‘যদি বিনিয়োগের বড় অংশ ৭ হাজার বর্গফুটের বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট ও শপিংমল নির্মাণে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে না।’








