কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং উন্নত জাতের বীজের ব্যবহারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তবে কিছু জমিতে পানি জমে গাছ লালচে হয়ে যাওয়ায় ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় পাটের মানোন্নয়ন ও উজ্জ্বল রং পেতে ‘রিবন রেটিং’ বা ছালকরণ পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৩৩ হেক্টর বেশি। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২৮টি ব্লকেই পাটের ফলন ভালো হয়েছে।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা জানান, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকির কারণে এবার রেকর্ড আবাদ হয়েছে। তবে কৃষক সুনীল মন্ডল ও আবদুস সাত্তার জানান, বৃষ্টির পানি জমে নিচু এলাকার পাটগাছ লালচে হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রথাগত পদ্ধতির বদলে ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতিতে পাট পচানো বেশি কার্যকর। এই পদ্ধতিতে অল্প পানিতেই পাট পচানো সম্ভব, ফলে আঁশের রং উজ্জ্বল ও সোনালী হয় এবং বাজারে ভালো দাম নিশ্চিত হয়। তিনি আরও জানান, এবার হেক্টরপ্রতি ২.৭ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিঘাপ্রতি ৯ মোণেরও বেশি। বর্তমানে বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সংবাদকে বলেন, সরকারের খাল খনন প্রকল্পের সুফল কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও এই খালগুলো পাট ধোয়া ও পচানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।
রাজনীতি
খোকসায় পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আবাদ

শেয়ার করুন







