নানা নাটকীয়তার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হলেও উত্তেজনা কমছে না মধ্যপ্রাচ্যে। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে করা অন্তর্বর্তী চুক্তিই এখন নতুন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে চুক্তির অস্পষ্ট ধারা নিয়ে দুপক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এরই মধ্যে প্রণালিতে একটি কনটেইনার জাহাজে হামলার ঘটনায় নতুন সংকটের মুখে পড়েছে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা।
শনিবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির ভাষায় থাকা অস্পষ্টতাই এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই সপ্তাহও পূর্ণ হওয়ার আগেই এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত ৭২ ঘণ্টায় সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করা একটি কনটেইনারবাহী জাহাজে হামলা চালায় ইরান। বিশ্বে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী স্মারকে বলা হয়েছে, ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেবে। তবে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ এবং ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে চুক্তিতে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই অস্পষ্ট ধারার ভিত্তিতে ইরান এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো কোন পথ ব্যবহার করবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার তাদের রয়েছে। কনটেইনার জাহাজে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান জাহাজগুলোর উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, প্রণালি অতিক্রমের একমাত্র বৈধ পথ তাদের নিজস্ব জলসীমার মধ্য দিয়েই। এর মাধ্যমে তারা জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিকল্প রুট ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে চেয়েছিল। ওই বিকল্প পথটি প্রণালির দক্ষিণ অংশে, ওমান উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ভাষায় ইচ্ছাকৃতভাবেই নমনীয়তা রাখা হয়েছে, যাতে উভয়পক্ষকে সমঝোতায় আনা সম্ভব হয়। তবে সেই নমনীয় ভাষাই এখন ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, চুক্তির এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে উভয়পক্ষই নিজেদের সুবিধামতো বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। যাতে চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে অনিশ্চয়তার অবসান হওয়ার আগেই তারা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।








