খুলনার সবজি ও মাংসের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও চড়া মাছের বাজার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয়, মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে মাছের দাম। ঊর্ধ্বমুখী এ দামের কারণে ক্রেতাদের রয়েছে নানা অভিযোগ।
রোববার (২৮ জুন) সকালে খুলনার মিস্ত্রিপাড়া বাজার, গল্লামারি বাজার ও নতুন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি রুই ২৫০-২৮০, কাতলা মাছ ২৪০-২৫০, ভেটকি ৪০০-৪৫০, পাবদা ৩৫০-৪০০, ছোট চিংড়ি ৬৫০-৮০০, টাকি ২২০-২৫০, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা কেজিতে, ট্যাংরা ৬০০-৭০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ৪০০-৫০০ টাকা এবং দেশি বড় পুঁটি মাছ ১৫০-১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে সবজি বাজারে বেগুন ৩০-৩৫ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, কুশি ৩০, ঢ্যাঁড়স ৩০, কাঁচামরিচ ৮০-১০০, শসা ৬০, পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ৪০, আলু ২৫, দেশি পেঁয়াজ ৩০-৪০ এবং রসুন ৭০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
অন্যদিকে, মুরগির মধ্যে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৬০-১৭০, সোনালি ২৭০-২৮০ এবং লেয়ার ২৮০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মিস্ত্রিপাড়া বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হাফিজ শেখ বলেন, ‘মাছের খাবারের কারণে ঘেরের মাছের দাম বেশি। সাগরের মাছের দাম পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। আমাদেরতো ব্যবসা করে টিকে থাকতে হবে। যে চিংড়ি মাছ পাইকারি ৩০০-৩৫০ টাকায় ক্রয় করতে পেরেছি, তার দাম এখন কেজিতে ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে। ক্রেতাদের দাম বলতে খারাপ লাগে।
মাছ বিক্রেতা সাজেদ মিয়া বলেন, ‘মাছের দাম প্রচুর। মাছ বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। দাম শুনে ক্রেতারা ঘুরে চলে যায়। তবে মাছের খাবারের দাম কমলে আর সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে বাজারে মাছের দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’
মিস্ত্রিপাড়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী তুলশী রানী বলেন, ‘বাজারে অনেক সবজি। সবজির ঘাটতি নাই। ২০ টাকাতেও ঢ্যাঁড়স বিক্রি করছি। লেবু ৫টা ১০ টাকা। কুমড়া বিক্রি করছি ৩০ টাকা কেজিতে। এর চাইতে আর কম দামতো সবজিতে চলে না।’
বাজারে আসা ক্রেতা ফরিদুল হক বলেন, ‘দেশী মুরগীর দাম একটু বেশি। অন্যান্য জিনিসের মধ্যে মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। বড় পাঙ্গাসের দাম ২০০ ছুঁই ছুঁই। এমন হলে মাছ কিনে বাসায় যাওয়া কষ্টকর। মাছের দাম কমানো দরকার।
আরিফুর রহমান/জেআইএম








