• ছাদ ধস ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে বাঁশের খুঁটি
  • ভেঙে পড়েছে সীমানা প্রাচীর
  • খামারের একাংশ আগাছায় ঢেকে গেছে

জনবল সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে অবস্থিত সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার।

দেশের পোলট্রি শিল্পে একসময় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রাখা এই প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা এখন তলানিতে ঠেকেছে।

খামারটিতে অনুমোদিত পদ ২০টি, কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র সাতজন। এর মধ্যে মুরগির শেডে কাজ করার মতো কোনো শ্রমিকই নেই বলে জানিয়েছে কতৃপক্ষ।

খুঁড়িয়ে চলছে জয়পুরহাটের সরকারি মুরগি খামার

সরেজমিনে দেখা যায়, খামারের একাংশ আগাছায় ঢেকে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়েছে সীমানা প্রাচীর। ১২টি শেডের মধ্যে চারটির ছাদ নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বাকি আটটি শেডে কার্যক্রম চললেও সেগুলোর অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। কোথাও কোথাও ছাদ ধসে পড়া ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

খামার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্রমিক ও জনবল সংকটের কারণে খামারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ২০০৮ সালে এখানে আধুনিক হ্যাচারি স্থাপন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। খামারে ২০ হাজার বাচ্চা ও দুই হাজার লেয়ার মুরগি লালন-পালনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুই হাজার বাচ্চা ও এক হাজার ৮০০ লেয়ার মুরগি রয়েছে। আর বছরে মাত্র দুই লাখ বাচ্চা উৎপাদন করে খামারিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।

খুঁড়িয়ে চলছে জয়পুরহাটের সরকারি মুরগি খামার

স্থানীয় খামারি আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা বলেন, ‘একসময় এখান থেকে উন্নত মানের বাচ্চা ও কারিগরি পরামর্শ পেতাম। কিন্তু এখন বেহাল অবস্থার কারণে আগের মতো সুবিধা পাওয়া যায় না। দ্রুত সংস্কার করা হলে খামারিরা আবারও উপকৃত হবেন।’

জয়পুরহাটের সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের উপপরিচালক ডা. মো. ওয়ালী-উল-ইসলাম জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘অনুমোদিত ২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র সাতজন। বর্তমানে শেডে কাজ করার মতো কোনো শ্রমিক নেই। চারটি শেড দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় উৎপাদন সক্ষমতাও কমেছে। অবকাঠামো ও জনবল এই দুই সংকট নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। জরাজীর্ণ শেড সংস্কার এবং জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কারকাজ শুরু হবে।’

মাহফুজ রহমান/এএইচ/এএসএম