পেকুয়ায় চারটি এবং কুতুবদিয়ায় দুটি প্রকল্পের ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কুতুবদিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাসের বিরুদ্ধে। প্রকল্প চলমান সময়ে তিনি পেকুয়া উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পে এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘অফিস খরচ বাঁচাতে গেলে কিছু কিছু খাত থেকে বাঁচাতে হয়। কিছু সেভ না করলে আমি চলব কী করে। আমি তো পকেট থেকে অডিট খরচ দিতে পারব না, আমার কোনো না কোনো খাত থেকে এডজাস্ট করে নিতে হবে। এসব বিষয় ডিডি স্যার জানেন।’ অভিযোগে জানা যায়, পেকুয়ার দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে প্রতি ব্যাচে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী ও রিসোর্স পার্সনসহ ৩৭ জনের জন্য সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবারহ ২১ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ থেকে ব্যয় করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। প্রতি ব্যাচে এভাবে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ দিয়ে তিন ব্যাচের নাস্তা ও খাবারের বরাদ্দ থেকে অন্তত ৩৩ হাজার টাকা লুটপাট করেছেন কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস। স্টেশনারি ক্রয় করতে তিন ব্যাচের ৩৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থেকে খরচ করেছেন ছয় হাজার ৫০০ টাকা। বাকি ৩১ হাজার টাকা তিনি পকেটে ভরেছেন। এছাড়া তিন ব্যাচে উপস্থিত রিসোর্স পার্সনের ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ থেকে মাত্র ৯ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ২১ হাজার টাকাও আত্মসাৎ করেছেন তিনি। একইভাবে কুতুবদিয়াও এমন অনিয়ম দুর্নীতি করে কৃষকদের গ্যাপ সার্টিফিকেশন প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থেকে অন্তত ৯০ হাজার টাকা লুটপাট করেছেন তিনি। এদিকে পার্টনার ফিল্ড স্কুল প্রকল্পের কৃষকদের প্রশিক্ষণের তিন ব্যাচের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় তিন লাখ টাকা। এ বরাদ্দ থেকে প্রতি স্কুলে নাস্তা খরচের জন্য ২১ হাজার ৬০০ টাকা করে দেওয়ার কথা। কিন্তু পেকুয়ার বেশ কয়েকজন ট্যাগ অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি স্কুলে নাস্তা খরচের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। নাস্তা খরচের ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থেকে তিন স্কুলে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন অসীম কুমার দাস। এছাড়া তিন স্কুলের প্রশিক্ষণার্থীর উপকরণ ক্রয়ের ১৮ হাজার ৬০০ টাকা থেকে মাত্র ছয় হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ট্রেইনার উপকরণ ক্রয়ের চার হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ থেকে এক টাকারও ট্রেইনার উপকরণ ক্রয় করা হয়নি। অপরদিকে পার্টনার প্রদর্শনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেকুয়ার ছয়টি প্রদর্শনীর জন্য ৫০ হাজার টাকা করে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া পার্টনার কংগ্রেস প্রকল্পে ১০০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পেকুয়া-কুতুবদিয়ায় দুই লাখ টাকা করে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দে নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতি করে সিংহভাগ টাকাই হাতিয়ে নিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস। বেশ কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষক প্রশিক্ষণের নামে যা হয়েছে তা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেট ভারি করা ছাড়া আর কিছু নয়। যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয় না। নামমাত্র কৃষক প্রশিক্ষণ, বাস্তবে চলে বরাদ্দের টাকা লুটপাট। কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস যুগান্তরকে বলেন, ‘কিছু আমাদের বাঁচাতে হয়। যে কোনো প্রোগ্রামে কিছু সেভ না করলে চলে না। কারণ, অডিট প্রোগ্রামে খরচ থাকে, টুকটাক অফিসিয়াল যে অনেক বিষয় আছে সেগুলোতে বাজেট ওভাবে দেয় না। এগুলো এডজাস্ট করতে হয় কোনো জায়গা থেকে।’ বরাদ্দ লুটপাট এটা তো ওপেন সিক্রেট দাবি করে কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অফিস খরচ বাঁচাতে গেলে কিছু কিছু খাত থেকে বাঁচাতে হয়। কিছু সেভ না করলে আমি চলব কি করে। আমি তো পকেট থেকে অডিট খরচ দিতে পারব না, আমার কোনো না কোনো খাত থেকে এডজাস্ট করে নিতে হবে। এসব বিষয় ডিডি স্যার জানেন। আমাদের বাঁচানোর সুযোগ থাকে এ রকম দুএকটা খাত থেকে, তা না হলে তো আমরা চলতে পারব না। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপ-পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, ‘আমি কৃষি কর্মকর্তাকে বলে দিচ্ছি আপনাকে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য’।