কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটিকে নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে ‘আমরা কিশোরগঞ্জ জেলাবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ রেলযাত্রী অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস শুধু একটি ট্রেন নয়, এটি জেলাবাসীর রাজধানীতে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। প্রতিদিন চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে অসংখ্য মানুষ এই ট্রেনে যাতায়াত করেন।

বক্তাদের ভাষ্য, ট্রেনটির গন্তব্য জারিয়া পর্যন্ত বর্ধিত করা হলে যাত্রাপথ দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি এর সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় বা পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কিশোরগঞ্জের নিয়মিত যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়বেন।

সমাবেশে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রয়োজনীয়তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জবাসীর স্বার্থ রক্ষায় সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে ট্রেনটিকে আগের গন্তব্যেই, অর্থাৎ কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে পরিচালনার জোর দাবি জানান বক্তারা।

দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়জন সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, জনস্বার্থ ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা যেন অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক পৌর কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, প্রভাষক ফরিদ আহমদ, ব্যবসায়ী আবু সাঈদ, সমাজসেবক মুরাদ ভুঁইয়া ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান।

কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা ও শহরের নিউ টাউন এলাকার বাসিন্দা তোফায়েল তপু জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলবে।