কয়েক বছর আগে যাত্রা শুরু করে কোক স্টুডিও বাংলা। তারপর থেকে নিয়মিত গান উপহার দিচ্ছে শ্রোতাদের। এবার চতুর্থ সিজনের দ্বিতীয় গান ‘মেঘ’ প্রকাশের পর কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে।  

বর্ষা ঋতুকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘মেঘ’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মোহাম্মদ শোয়েব, মাশা ইসলাম ও মৌসুমি। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব। কোক স্টুডিও বাংলার প্রধান সংগীত প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গানটিতে শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে আধুনিক সাউন্ডের সংমিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। গানটির সংগীতায়োজন, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার উপস্থাপন নিয়ে ব্যাপক চর্চা চলছে।  

স্মরণ দত্তের লেখা একটি গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘সোনার তরী’ নতুন সুরে ও হিপহপধর্মী স্টাইলে পরিবেশন করা হয়েছে। আর এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে হতাশা ব্যক্ত করেছেন নেটিজেনরা। 

একজন লেখেন, “রবিদাদু বেঁচে থাকলে নিশ্চিত তরী নিয়ে ডুবে মরতো। যাক অনেক হাসলাম।” আরেকজন লেখেন, “এবার সোনার তরী ছড়াটা একদিনের মধ্যেই মুখস্থ হয়ে যাবে।” রসিকতার ছলে একজন লেখেন, “গান-ও যে এত কষ্ট করে শুনতে হবে, কোনো দিন ভাবি নাই।” “সোনার তরী’ কবিতাটি এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আরো ভালোভাবে মনে থাকবে” বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। 

একজন লেখেন, “রুম ঝুম” পর্যন্ত সবগুলো গানই ভালো ছিল। এটা ফিকে হয়ে গেছে।” আরেকজনের মন্তব্য, “ঘোড়ার ডিম বানাইছেন ভাই, সেই হইছে।” আরেকজনের মন্তব্য, “দ্য বেস্ট অখাদ্য এভার।” 

গানটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন লেখক আনিসুল হকও। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “যেকোনো নিরীক্ষা করা শিল্পীর অধিকার। সমালোচনা করা শ্রোতার অধিকার। ‘সোনার তরী’ কবিতা এর চেয়ে খারাপ রূপ আর কিছু হতে পারত না। আমাদের ছোট নদী এইভাবে গাওয়া যায়, সোনার তরী নয়। কবিতাটা ওরা বোঝেনি। এক্সপেরিমেন্টের জন্য অভিনন্দন। করুণভাবে ফেইল করার জন্য শোক। ১০-এ মাইনাস ১০।” এমন অসংখ্য মন্তব্য নেট দুনিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে।