ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতের পর পাঁচদিন পেরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় উদ্ধারকারীরা বলছেন, কাউকে জীবিত পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এসবের মধ্যেও অলৌকিক কিছু ঘটছে। গত রোববার ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় বাবা-ছেলেকে। এ অবস্থায় উদ্ধারচেষ্টা থেমে নেই। সম্ভাবনার আলো ক্ষীণ হলেও স্বজনদের অলৌকিকের প্রত্যাশা এখনও উজ্জ্বল।

সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা। উপকূলীয় রাজ্যটিতে বহু ভবন ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যার জোড়া ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছুঁয়েছে। আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১৫০ জন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ‘রোববারও আমরা জীবিতদের উদ্ধার করেছি। তাই এ কার্যক্রম স্থগিত করা হচ্ছে না। আমরা সবসময়ই আশাবাদী।’ কয়েকজন মন্ত্রীকে পাশে নিয়ে রদ্রিগেজ জানান, স্কুলগুলোতে আরও এক সপ্তাহ ক্লাস বন্ধ থাকবে।

এর আগে তার ভাই ও জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে ১২ হাজার ৭২১ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন; ধসে পড়েছে ৭৭৪টি ভবন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জীবন রক্ষায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া এবং যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে কিংবা যারা নানা কারণে বাড়ি ফিরতে পারছেন না, তাদের জন্য আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা জরুরি।’

বিদেশি উদ্ধারকর্মীর পাশাপাশি স্থানীয় পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবকরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও মৃতদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করেছেন। তারা ভারি যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ও সরকারি সহায়তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ করছেন। ভূমিকম্পের পরাঘাত নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। ভেনিজুয়েলা সরকারের তথ্যমতে, গত শনিবার অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি শিশু রয়েছে। তবে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন।

সরকার নিখোঁজ বা আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা শত শত বলে উল্লেখ করলেও দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রচার করা একটি ওয়েবসাইটে গত রোববার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নিখোঁজ থাকার তালিকা দেখা গেছে-যা আগের দিনের ৫৫ হাজার সংখ্যার তুলনায় কিছুটা কম।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। সুইস উদ্ধারকারী দলের প্রধান সেবাস্তিয়ান ইউগস্টার বলেন, জীবিত উদ্ধারের ক্ষেত্রে তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টার একটি সময়সীমা বা ‘উইন্ডো’ থাকে। এরপর জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যায়। গত শনিবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পূর্ণ হয়েছে।

সোমবার বিবিসি জানায়, লা গুয়াইরা রাজ্যে ভূমিকম্পের পর ১০৬ ঘণ্টা আটকা থাকা ২১ বছরের এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। এ অবস্থায় একের পর এক পরাঘাত অব্যাহত আছে। গতকালও ৪ দশমিক ৬ মাত্রার পরাঘাত হয়েছে।

চারদিন পর উদ্ধার বাবা-ছেলে

ভূমিকম্পের চারদিন পর একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা ও ছেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কারাকাস থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকায় ওই অভিযান চালায় ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল। রয়টার্স জানায়, লা গুয়াইরা থেকে উদ্ধারকর্মীরা ওই দুজনকে উদ্ধার করেন। তাদেরকে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল এবং তারা মুখে মাস্ক পরা ছিলেন। ওই দুইজনকে কাপড়ের স্ট্রেচারে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।