কুলাউড়ার রবিরবাজারের পৃথিমপাশা পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে জমে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে এভাবে আবর্জনা ফেলা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রবিরবাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে আনা ময়লা-আবর্জনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশের খালি জায়গায় ফেলা হচ্ছে। প্লাস্টিক, পলিথিন, হোটেলের পচা-বাসি খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমে সেখানে বিশাল আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকায়। এতে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে আসা রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র রবিরবাজার। প্রতিদিন এখানে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। সীমান্তবর্তী এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত রোগী পৃথিমপাশা পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসেন কিন্তু দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আমরা বহুবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সীমানা নির্ধারণ, প্রাচীর নির্মাণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং আবর্জনা অপসারণের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাসুক আহমদ বলেন, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে মাইকিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেনেজ সুবিধার অভাব ও সমস্যাকে জটিল করে তোলেছে। পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার শিরিনা খাতুন বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে বাজারের লোকজন ময়লা-আবর্জনা ফেলে। বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সীমানা প্রাচীর না থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্নালী দাস জানান, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময়ে সিভিল সার্জনের ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠক এবং সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার চেষ্টা করব। ইউএনও সানজিদা আক্তার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সহিত দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।