কুমিল্লা নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপু ও সাব্বির সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। নগরীর কাঁটাবিল এলাকার খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, মাদক এবং আধিপত্য বিস্তার করছে ওই দুটি গ্রুপ। পান থেকে চুন খসলেই দুটি গ্রুপ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তের খেলায় মাতে। নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিতে প্রায়ই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। এ দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন নগরীর পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা। ২৮টি মামলা নিয়েও নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসী আবু হানিফ ওরফে অপু। আর সাব্বিরের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত এক ডজন মামলা। দুটি গ্রুপকে নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে র‌্যাব-ডিবি-পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীর পূর্বাঞ্চল তথা কাঁটাবিল এলাকায় আতঙ্কের নাম সন্ত্রাসী অপু এবং সাব্বির। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চোরাচালান, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা, জুয়াসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে অপু এবং সাব্বির গ্রুপ।

স্থানীয়রা জানান, অপু গ্রুপ বেশি শক্তিশালী। তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। শতাধিক ক্যাডার, কয়েকটি কিশোর গ্যাং, বেশকিছু মাদক বিক্রেতা রয়েছে এ গ্রুপে। এলাকার রাজনৈতিক নেতারা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এসব বিষয়ে চুপ থাকে।

একই অভিযোগ সন্ত্রাসী সাব্বির গ্রুপের বিরুদ্ধে। যেসব স্থানে অপু গ্রুপ মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করে, একই স্পটে সাব্বির গ্রুপও মিশন পরিচালনার চেষ্টা করে। অর্থাৎ পাল্লা দিয়ে একই অপরাধ করছে তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এত মামলা এবং অভিযোগ থাকার পরেও তারা রীতিমতো এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নিয়মিত অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। এর আগে ২৫ জুন মাদক ব্যবসার বিরোধ নিয়ে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গোলাগুলি এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে ইথান আহমেদ প্রেম নামের এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়। সন্ত্রাসী অপু গ্রুপের গুলিতেই শিক্ষার্থী আহত হয় বলে স্থানীয়রা জানান। ঘটনার পর থেকে র‌্যাব-ডিবি-পুলিশ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। তবে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের মূল অপরাধীদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

স্থানীয়রা জানান, ইতঃপূর্বে সন্ত্রাসী অপু একাধিকবার ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও অল্প সময়ের মধ্যেই সে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। কাঁটাবিল এলাকার নাসির উদ্দিন বলেন, তাদের অস্ত্রশস্ত্র, সংঘাত সহিংসতা দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। শুধু আমরাই না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আমরা সন্ত্রাসী অপু এবং সাব্বিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ধরা পড়তে পারে। কুমিল্লা ডিবির ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, শিগ্গিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ-সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কাঁটাবিল এলাকার সন্ত্রাসীদের দমনে পুলিশকে কঠোর হতে হবে।