কুমিল্লা থেকে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি হওয়া এবং হারিয়ে যাওয়া মোবাইল সেট যাচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ট্র্যাকিং এড়াতে এগুলো সীমান্তের ওপারে পাঠানো হচ্ছে। দুদেশের অপরাধ চক্রের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক থাকায় সীমান্তের গিরিপথে এসব মোবাইল সেট এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাচার হচ্ছে। জেলায় অপরাধ চক্রের কবলে পড়ে ব্যবহারকারীদের প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক মোবাইল সেট খোয়া যাচ্ছে। এগুলো ত্রিপুরার আগরতলাসহ বিভিন্ন মার্কেটে স্বল্পমূল্যে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যায়। এদিকে ত্রিপুরায় চুরি-ছিনতাই ও হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন আসছে কুমিল্লায়। অর্থাৎ দুদেশের অপরাধ সিন্ডিকেট নিয়মিত মালামাল বদল করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। জেলার ভারত সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট ঘিরে এসব সিন্ডিকেট বেশ তৎপর। প্রতি রাতেই দুদেশের চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি হওয়া মোবাইল সীমান্ত পারাপার হচ্ছে। এতে বেশির ভাগ বেহাত মোবাইলের কোনো হদিস মিলছে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৯ হাজার মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি হচ্ছে। কুমিল্লায় এর সংখ্যা তিন শতাধিক। ভুক্তভোগীরা জেলার সব থানায় প্রতিদিন গড়ে শতাধিক সাধারণ ডায়েরি করছেন। তবে অধিকাংশই অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকছেন। ছিনতাই হওয়া ফোনের অবস্থান ট্র্যাকিং এড়াতে বিশেষ সফটওয়্যার ও অ্যাপ ব্যবহার করে আইএমইআই নম্বর বদলে ফেলা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর, বড়জ্বালা গোলাবাড়ী, সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুর, মথুরাপুর, বলেরডেপা, দলকিয়া, বুড়িচং উপজেলার শঙ্কুচাইল, লড়িবাগ, খারেরা বেলবাড়ি এলাকার গিরিপথগুলো ব্যবহার করে দুদেশের চোরাই সিন্ডিকেট মোবাইল ফোন আনা-নেওয়া করছে।
এদিকে আইফোনের মতো দামি মোবাইলগুলোর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা কঠিন হওয়ায় এগুলো দেশের বাজারে বিক্রির ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি ভারতে পাচার করা হচ্ছে। একইভাবে ভারত থেকেও বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে।
সীমান্তবর্তী নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, কুমিল্লা এবং ত্রিপুরার চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। প্রতি রাতেই নতুন মোবাইলের পাশাপাশি পুরোনো মোবাইল সেট আসছে। পুলিশ-বিজিবি সবই জানে।
গোলাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবীব বলেন, শুধু পুরোনো মোবাইল ক্রয়-বিক্রয়ে আলাদা সিন্ডিকেট রয়েছে। কুমিল্লায় চুরি-ছিনতাই ডাকাতির সব মোবাইল ত্রিপুরায় পাচার হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, প্রতিদিনই থানায় মোবাইল ফোন হারানোর সাধারণ ডায়েরি হচ্ছে। আমরা এসব মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেক মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা-১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী এজাজ বলেন, আমাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে চোরাই মোবাইল ফোন পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে একাধিক মোবাইল ফোনের চালান আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।








