উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের নিচু ভূমি প্লাবিত হওয়ায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বন্যার্ত মানুষের জন্য ইঁদুরে কাটা ও মেয়াদোত্তীর্ণ চাল, ডাল, লবণ ও মসলা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতেই এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিষয়টিকে ‘ভুল’ বলে স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর খিতাবখা এলাকায় দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে সবজির বীজ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আসাদুজ্জামান মিয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রহমত আলী।

কুড়িগ্রামে ইঁদুরে কাটা-মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণ বিতরণের অ‌ভিযোগ

ত্রাণ বিতরণের সময় কয়েকটি প্যাকেট ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। পরে সেগুলো খুলে দেখা যায়, চাল, ডাল, লবণ ও মসলার প্যাকেট ইঁদুরে কাটা। এছাড়া কয়েকটি খাদ্যপণ্যের মেয়াদও উত্তীর্ণ ছিল।

স্থানীয়দের দাবি, এসব ত্রাণসামগ্রী গত বছরের বন্যার পর অবশিষ্ট ছিল এবং চলতি বছরের সম্ভাব্য বন্যার জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ‌গাড়িতে আনার সময় এগুলো ছিঁড়ে গেছে। একইসঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী বিতরণের অভিযোগ এড়িয়ে যান তি‌নি।

পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, একটি অ‌নিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তি‌নি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৭০ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানিবৃদ্ধির ফলে রাজারহাট উপজেলার চর গতিয়াশাম, চর খিতাবখা, ঢুষমারা, গনাই, হায়াত খা, রামহরি ও গাবুর হেলান এবং উলিপুর উপজেলার গোড়াইপিয়া ও জুয়ানসতরা চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, উজান থেকে পানি আরও বাড়তে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

রোকনুজ্জামান মানু/এসআর/এএসএম