কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরিচয়হীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো যুবকের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তিনি নেপালের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারত সীমান্তের জলঙ্গী এলাকা হয়ে ওই যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান। বর্তমানে তিনি ইসলামপুর এলাকার ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদের (মুক্তার সরকার) হেফাজতে রয়েছেন। মানবিক কারণে পলাশ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আশ্রয়, চিকিৎসাসহ ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। 

প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই যুবকের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ইমো নম্বর দেন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায়, যুবকের নাম রিয়ান আনসারী। তিনি নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানার বাসিন্দা এবং বাদল আনসারীর ছেলে। 

রিয়ানের পরিবারের সদস্যরা তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন কয়েকবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন, যা তাঁর মানসিক অবস্থার উন্নতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

রিয়ানের দেখাশোনাকারী পলাশ আহমেদ বলেন, ‘‘প্রায় পাঁচ বছর ধরে রিয়ান আমার কাছেই আছে। পরিবারের একজন সদস্যের মতো করে তাঁকে দেখাশোনা করছি। তিনি ভাত খেতে চান না। গোশতের ঝোল দিয়ে মুড়িমাখা ও ডিম ভাজি খেতে বেশি পছন্দ করেন। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন না।’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‘শুরুতে তাঁর ভাষা বুঝতে কষ্ট হতো। এখন তিনি কিছুটা বাংলা বলতে পারেন। কয়েক দিন আগে তাঁর পরিবারের একটি নম্বর দেন। সেই নম্বরে যোগাযোগ করে তার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন তিনি প্রতিদিন চার থেকে পাঁচবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি খুবই খুশি এবং পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান। তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারব ভেবে যেমন আনন্দ হচ্ছে, তেমনি দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণে খারাপও লাগছে।’’ 

ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, ‘‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে আমি অবগত হয়েছি।’’ 

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘‘আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নই। তাই এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না।’’ 

দীর্ঘদিন পরিচয়হীন অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তির পরিবারের সন্ধান পাওয়ায় স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বছরের পর বছর রিয়ানের পাশে দাঁড়ানো পলাশ আহমেদের ভূয়সী প্রশংসা করছেন এলাকাবাসী।