দেশে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলা কিউআরের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. হাবিবুর রহমান, ড. কবির আহম্মেদ, জাকির হোসেন চৌধুরী, বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মো. মামুন, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানসহ অন্যরা।
ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, কাগজের টাকার ব্যবহার বা নগদ লেনদেন কমিয়ে ধীরে ধীরে একটি ক্যাশলেস সোসাইটি বা ‘নগদবিহীন’ সমাজ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে। বাজারে কেনাকাটার সময় খুচরা টাকা বা চেঞ্জ না থাকার কারণে প্রায়ই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের। বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত মূল্য সরাসরি গ্রাহকের হিসাব থেকে কেটে নেওয়া যাবে। তার মতে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর নিরাপত্তা ও সহজলভ্যতা। নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমে আসবে এবং গ্রাহকরা নিরাপদ ও দ্রুত উপায়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি লেনদেন নথিবদ্ধ থাকবে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধিও বাড়বে। তিনি সব ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অ্যাপসে বাংলা কিউআরের সুবিধা সংযুক্ত করার আহ্বান জানান।
ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহম্মেদ বাংলা কিউআরকে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সব ধরনের লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হলে সরকারের কর আহরণের সক্ষমতা বাড়বে। অর্থনীতির বড় অংশ যখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দৃশ্যমান হবে, তখন কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। কবির আহম্মেদ জানান, আগামী বছর দেশে একটি ‘ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনো মোবাইল আর্থিক সেবা থেকে ব্যাংক হিসাবে এবং ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইল ওয়ালেটে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে। তিনি বলেন, আর্থিক লেনদেনে সংযোগ বা কানেক্টিভিটি যত বাড়বে, অর্থনীতির উৎপাদনশীলতাও তত বৃদ্ধি পাবে। নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমে আসবে এবং একটি স্বল্প ব্যয়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন এই ডেপুটি গভর্নর। ইনস্ট্যান্ট ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে এসব ক্ষেত্রে সময় ও খরচ উভয়ই কমবে এবং মানুষের ভোগান্তি হ্রাস পাবে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল লেনদেন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন কবির আহম্মেদ। তার ভাষ্য, প্রতিটি ডিজিটাল লেনদেনের একটি নির্দিষ্ট রেকর্ড বা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট থাকে। ফলে অর্থের উৎস ও গন্তব্য অনুসরণ করা সহজ হয়, যা অবৈধ অর্থপাচার রোধে সহায়ক হতে পারে।








