সরকার লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে লবণচাষে সহায়তা দিতে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কক্সবাজারের ৩২ হাজার ৪১০ জন এবং চট্টগ্রামের ৭ হাজার ৭৪০ জনসহ মোট ৪০ হাজার ১৫০ জন লবণচাষি ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে লবণচাষ করে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন করেছেন।

আরও পড়ুন

দ্বিগুণ লবণ খায় বাংলাদেশের মানুষ

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় যাচাই করে মাঠপর্যায়ে লবণের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে লবণচাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পান।

মন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য লবণ আমদানির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে সরকার লবণ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করছে। সোডিয়াম সালফেট বা ডাইসোডিয়াম সালফেটের নামে যাতে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি করা না যায়, সে জন্য শুল্ক ছাড়ের আগে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার লবণের আমদানি শুল্কহার পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি দেশীয়ভাবে উৎপাদিত লবণের গুণগত মান উন্নয়নে নিয়মিত চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

লবণচাষিদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে লবণচাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ লবণের গড় মূল্য ৩৩৭ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৭১ টাকা।

লবণচাষিদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জামানতবিহীন ৫ শতাংশ সরল সুদে ‘লবণচাষিদের জন্য বিশেষ ঋণ কর্মসূচি’ চালু করেছে।

তিনি জানান, এ কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ৬৭৭ জন লবণচাষির মধ্যে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতায় তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রকৃত লবণচাষিদের ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।

এমওএস/বিএ