বিশ্বকাপে সরাসরি লাল কার্ড মানেই পরের ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা। ফুটবলের এই নিয়ম এতটাই প্রতিষ্ঠিত যে সেটি নিয়ে সাধারণত বিতর্কেরও সুযোগ থাকে না। কিন্তু এবার সেই পরিচিত নিয়মেরই ব্যতিক্রম ঘটাল ফিফা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের শাস্তির কার্যকারিতা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে ফিফা। ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা থাকছে না তাঁর।

বিশ্বকাপ চলাকালে এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরল। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ডের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যুক্ত থাকে এবং সেটির বিরুদ্ধে আপিলেরও সুযোগ নেই। অথচ সেই শাস্তিই এবার কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করে দিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত তাই নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।

রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যদি ফোলারিন বালোগান পরীক্ষামূলক সময়ের মধ্যে একই ধরনের ও একই মাত্রার আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং বর্তমান শাস্তি কার্যকর হবে। নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তির বাইরে এই শাস্তিও কার্যকর হবে।’

বালোগান গত বুধবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো বলেছিলেন, ‘আমার কাছে? এটা কখনোই লাল কার্ড নয়। খেলোয়াড়টির ওপর পা দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। এটা ফুটবলের একটি স্বাভাবিক ঘটনা, যা দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে।’

ফিফার এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘সঠিক কাজটি করার জন্য এবং একটি বড় অবিচার সংশোধন করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ!’

২৫ বছর বয়সী বালোগান চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। ইতিমধ্যে তিন গোল করেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন এই স্ট্রাইকার। তাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে তাঁকে ফিরে পাওয়া মাঠের হিসাবেও বড় স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই ফিফার এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল।