যত দিন গড়াচ্ছে, বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক বাড়ছেই। নকআউট পর্বের শুরু থেকে আলোচনা যেন ঘুরপাক খাচ্ছে লাল কার্ড নিয়েই।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগপর্যন্ত নকআউটে লাল কার্ড দেখেছেন দুজন। এরপর দুজনের পথ ঘুরে গেছে দুই দিকে।

একজন মাফ পেয়ে নেমেছেন মাঠে, আরেকজনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই ম্যাচ। ফিফার এই দ্বৈত আচরণের কারণ কী?

ঘটনার সূত্রপাত শেষ ৩২-এ। যুক্তরাষ্ট্র–বসনিয়ার খেলায় লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। বসনিয়ার খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় তাঁকে।

নিয়ম অনুযায়ী শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁর থাকার কথা মাঠের বাইরে। সেই নিয়ম বদলে গেল ফিফার নির্দেশনায়। ফিফার কাছে লাল কার্ড নিয়ে আপিল করে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউস থেকে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন দিলেন ফিফা সভাপতিকে। এরপরেই ফিফা থেকে জানানো হলো, লাল কার্ড দেখলেও বালোগানের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে কোনো বাধা নেই। ফলে শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামলেন বালোগান।

একেবারেই যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। মেক্সিকান খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দেওয়ায় লাল কার্ড দেখানো হয় তাঁকে। সেদিন রাতেই বালোগানের লাল কার্ড বাতিল করেছিল ফিফা।

ফলে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল মজা করে বলেছিলেন, ‘হ্যারি কেইনকে বলব ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে। যাতে ওর লাল কার্ডটাও বাতিল করা হয়।’

হ্যারি কেইন বলেছেন কি না জানা নেই, কিন্তু ইংল্যান্ড আপিল করেছিল কোয়ানসাকে দেখানো লাল কার্ডকে বিবেচনা করতে। তাদের আপিল ফিরিয়ে দিয়েছে ফিফা। উল্টো ফাউলের ধরন দেখে নিষেধাজ্ঞা এক ম্যাচ থেকে বাড়িয়ে করেছে দুই ম্যাচ।

দুই খেলোয়াড়ের ঘটনা পুরোপুরি এক। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখেছেন দুজনেই। ভিএআর দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর পৌঁছায় এই সিদ্ধান্তে। মাঠে রেফারির নেওয়া সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল দুই দলই। ফলে আরেকবার দুজনকেই আতশি কাচের নিচে ফেলার সুযোগ ছিল ফিফার।

লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান

ফিফা নিজেদের ২৭ নম্বর ধারাকে ব্যবহার করেছে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য।
ফিফার ২৭ নম্বর ধারায় লেখা আছে, ‘কমিটির সবাই যদি একমত হয়, তবে যেকোনো শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করতে পারবে।’

সেই নিয়ম অনুযায়ী বালোগানের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও যদি তিনি একই ধরনের কাজ করেন, অর্থাৎ লাল কার্ড দেখেন, তবে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় ধরনের শাস্তি।

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ে ক্ষমা চাইলেন ভিনিসিয়ুস

কোয়ানসার ক্ষেত্রে একই নিয়ম বিবেচনার আপিল করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সেটা ব্যবহার করা হয়নি। বরং ডিসিপ্লিনারি কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে, এক ম্যাচ নয়, তাঁকে বরখাস্ত করা হবে দুই ম্যাচের জন্য। অর্থাৎ একই জায়গা থেকে দুই খেলোয়াড়ের জন্য সিদ্ধান্ত এসেছে দুই রকম।

ফলে প্রশ্নটা এসেই যায়, যতই ফিফা সভাপতি না করুন না কেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলেই কি বদলে গিয়েছে সিদ্ধান্ত? নাকি একই দোষে দুজনের দুই রকম শাস্তি হওয়াটা নিছকই কাকতালীয়?

কোর্তোয়া বললেন চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স বা স্পেন, রোমেরো বললেন ‘কান দিই না’