কুমিল্লার লালমাইয়ে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন করেছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। শনিবার উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গৃহবধূর ঘর থেকেই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত এনায়েত হোসেন বাহার (৩৮) একই গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে। লাশ উদ্ধারের সময় তার মাথায় এবং ঘাড়ে দায়ের কোপের চিহ্ন ছিল। রাতে এ বিষয় নিশ্চিত করেছেন লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, ওই প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে নিহত বাহারের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামীর চাপে গৃহবধূ বাহারের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখে। এরই মাঝে দেশে ছুটি কাটিয়ে এক সপ্তাহ আগে তার স্বামী আবারও প্রবাসে চলে যান। শনিবার সকালে বাহার জোর করে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ক্ষুব্ধ ওই গৃহবধূ ঘরে থাকা দা দিয়ে মাথা এবং ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাহারকে হত্যা করে। পরে সে নিজেই ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং গৃহবধূকে গ্রেফতার করে। ওই গৃহবধূ বলেন, ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘরে আমার বৃদ্ধা শাশুড়ি এবং আমি থাকি। সেই সুযোগে বাহার আমাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। কুমিল্লা র্যাব অফিসেও একবার অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগের পর কিছু দিন বন্ধ থাকলেও আমার স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পরপরই আবার সে আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। ঘরে ঢুকেই ধর্ষণের চেষ্টা করলে আমি বাঁচার জন্য দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করি। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। পরে আমি নিজেই ৯৯৯-এ কল করে পুলিশে খবর দিয়েছি। লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে বাহারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে ঘাতক নারীকে গ্রেফতার করেছে।




