বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নিয়মিত আলোচনায় রয়েছেন স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামাল। বিশ্বকাপে তার প্রেমিকা ২১ বছরের ইনেস গার্সিয়াকেও ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ইনেসের গলায় দেখা একটি বিশেষ কাস্টম ডায়মন্ড নেকলেস, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে স্টেডিয়ামে ইনেস গার্সিয়াকে এই নেকলেস পরে দেখা যায়। প্রথমে অনেকেই এটিকে বিলাসবহুল অলংকার ভেবেছিলেন। পরে জানা যায়, এটি আসলে লামিন ইয়ামালের পক্ষ থেকে তার প্রেমিকার জন্য তৈরি করা একেবারে বিশেষ একটি উপহার। নেকলেসটির প্রতিটি অংশে ফুটে উঠেছে ইয়ামালের ব্যক্তিগত জীবন, শৈশব এবং ফুটবল ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম লা ভ্যানগার্ডিয়া জানিয়েছে, নেকলেসটি সম্পূর্ণ কাস্টম ডিজাইনের। এটি তৈরি করেছেন স্প্যানিশ জুয়েলার ইনিয়াকি তোরেস, যিনি আইটি জুয়েলার্স -এর প্রতিষ্ঠাতা। স্প্যানিশ ম্যাগাজিন ওলা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নেকলেসটি রোজ গোল্ড ও উচ্চমানের হিরা দিয়ে হাতে তৈরি করা হয়েছে এবং এর প্রতিটি নকশার পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ গল্প।

নেকলেসটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ দুটি পৃথক পেনডেন্ট। একটি পেনডেন্টে রয়েছে ‘এলওয়াই’যা লামিন ইয়ামালের নামের আদ্যক্ষর। অন্য পেনডেন্টে খোদাই করা হয়েছে ১০, ১৯, ২৭ ও ৪১-এই চারটি সংখ্যা। এগুলো ইয়ামালের ফুটবল ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে পরা জার্সি নম্বরের স্মারক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
এতেই শেষ নয়। নেকলেসে রয়েছে ‘৩০৪’ প্রতীকও, যা বার্সেলোনার রোকাফোন্দা এলাকার পোস্টাল কোড ০৮৩০৪-এর শেষ তিন অঙ্ক। এটি ইয়ামালের শৈশব, বেড়ে ওঠা এবং নিজের শিকড়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। পাশাপাশি নেকলেসে একটি ছোট মুকুট ও ফুটবল বুটের নকশাও রাখা হয়েছে, যা তার ফুটবল পরিচয় ও ভবিষ্যতের সাফল্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দামের দিক থেকেও নেকলেসটি কম আলোচনার জন্ম দেয়নি। লা ভ্যানগার্ডিয়া ও ওলা-এর তথ্য অনুযায়ী, এর মূল্য ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার ইউরো। সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৪৩ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন
ব্যাকলেস স্টাইলে কেয়া, চোখ ফেরানো দায়
জুয়েলারি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি ওয়ান-অব-ওয়ান ডিজাইনের অলংকার। অর্থাৎ একই নকশার আর কোনো বাণিজ্যিক সংস্করণ বাজারে নেই। পুরো নেকলেসটি তৈরি করা হয়েছে শুধু লামিন ইয়ামালের ব্যক্তিগত গল্প ও ফুটবল যাত্রাকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে।
আরও পড়ুন
প্যাস্টেল লুকে মোহময়ী কৃতি শেট্টি
বিশ্বকাপ চলাকালে ইনেস গার্সিয়া প্রথমবারের মতো এই নেকলেস পরে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এটি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। অনেক ভক্তের মতে, এটি কেবল একজন প্রেমিকের দেওয়া দামি উপহার নয়, বরং লামিন ইয়ামালের সংগ্রাম, শৈশব, স্বপ্ন ও সাফল্যের প্রতীক।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, লা ভ্যানগার্ডিয়া, মার্কা
এসএকেওয়াই







