প্রশ্ন: রুকু থেকে উঠে ‘রব্বানা লাকাল হামদ’ নাকি ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ কোনটি বলা সঠিক? রুকু ও সিজদার দোয়ার অর্থ কী?

উত্তর: ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ এবং ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ দুটিই সঠিক। দুটিই গ্রহণযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হাদিসে এসেছে। তাই যে কোনোটি আপনি বলতে পারেন। এ ছাড়া ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ’ অথবা ‘আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ও বলতে পারেন। এই দুইভাবেও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

‘আল্লাহুম্মা’ এবং ওয়াও যুক্ত করে বা বাদ দিয়ে এই চার ধরনের বাক্যের মর্মার্থ একই হয়। অর্থ হলো, হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সব প্রশংসা।

জামাতে নামাজে রুকু থেকে ওঠার সময় ইমাম বলবেন, ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (অর্থাৎ আল্লাহ শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে) আর মুক্তাদি বলবেন ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বা ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’। আর একা নামাজ আদায়কারী রুকু থেকে ওঠার সময় ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে দাঁড়াবেন এবং ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলবেন। অর্থাৎ একা নামাজ আদায়কারী উভয়টিই বলবেন।

আরও পড়ুন

ইশারায় নামাজ পড়ার নিয়ম

নামাজের রুকুর তাসবিহ হলো, ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম’ অর্থাৎ আমি আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

সিজদার তাসবিহ হলো, ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ অর্থাৎ আমি আমার সুউচ্চ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়া সুন্নত, পাঁচবার বা সাতবারও পড়া যায়। ইচ্ছা করে তিনবারের কম পড়া অনুচিত।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন রুকু করে তখন সে যেন তিনবার ‘সুবাহানা রাবিবয়াল আযীম’ বলে এবং যখন সিজদা করে তখন যেন তিনবার ‘সুবহানা রাবিবয়াল আ’লা’ বলে। যখন সে এভাবে তিনবার করে তাসবিহ পড়বে, তখন তার রুকু ও সিজদা পূর্ণ হবে। আর এটি হল তাসবিহ আদায়ের সর্বনিম্ন পরিমাণ। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা)

তিনবার তাসবিহ পড়া যেহেতু ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তাই তিনবার তাসবিহের কম পড়লেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে। রুকু ও সিজদায় কেউ ভুল করে বা ইচ্ছাকৃত একবার বা দুবার তাসবিহ পড়লেও নামাজ বাতিল হবে না বা সাহু সিজদাও ওয়াজিব হবে না।

আরও পড়ুন

বাসর রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া সুন্নত নাকি বিদআত?

ওএফএফ