ফুটবল বিশ্বকাপের রেশ এখনো কাটেনি। নানান ঘটনা, আলোচনা, সমালোচনার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ২০২৬ এর ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। এবারের চ্যাম্পিয়ানের ট্রফি উঠেছে স্পেনের ঝুলিতে। তবে স্পেন শুধু ট্রফি কিংবা তাদের খেলোয়াড়দের দারুণ পারফরম্যান্সের জন্যই আলোচনায় আছে তেমন নয়। এর মধ্যে সবচেয়ে নজর কেড়েছে স্পেনের কম বয়সী খেলোয়াড় লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ইয়ামাল।
মাত্র ৩ বছর বয়সী কেইন এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। ম্যাচের সময় গ্যালারিতে তার উচ্ছ্বাস, ভাই লামিন ইয়ামালের সঙ্গে তার খুনসুটি এখন লাইম লাইটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে স্পেন দলের ‘স্পেনের সবচেয়ে ছোট সুপারফ্যান’ বলেও আখ্যা দিয়েছে। জানেন কি? এই খুদে তারকার এই বয়সেই নিজের পছন্দের ফুটবলারদের তালিকা করে ফেলেছেন।
এই খুদে তারকার বয়স মাত্র ৩ বছর
ভাই লামিন ইয়ামালের কাছেই জানা গেল সেই তালিকা
এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বড় ভাই লামিন ইয়ামালই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোট্ট কেইনের প্রিয় ফুটবলারদের তালিকায় রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার, পেদ্রি, রাফিনিয়া এবং লামিন ইয়ামাল নিজে। তালিকাটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কারণ অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, বার্সেলোনায় খেলা এবং স্পেনের জার্সিতে উজ্জ্বল লামিন ইয়ামালের ছোট ভাইয়ের প্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে নিশ্চয়ই থাকবেন লিওনেল মেসি। কিন্তু বাস্তবে সেই তালিকায় মেসির নাম ছিল না।
ভাই লামিন ইয়ামালের সঙ্গে কেইনের খুনসুটি এখন লাইম লাইটে
কেন রোনালদো?
মাত্র তিন বছর বয়সী একটি শিশুর কাছে ফুটবলের মানদণ্ড পরিসংখ্যান নয়, বরং আনন্দ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল উদযাপন, ‘সিউ’ সেলিব্রেশন কিংবা সামাজিক মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা শিশুদের সহজেই আকৃষ্ট করে। বিশ্বের অসংখ্য শিশুর মতো কেইনের কাছেও রোনালদো তাই একজন প্রিয় মুখ হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
নেইমারের জাদুও টানে
নেইমারের ড্রিবলিং, রঙিন জীবনধারা এবং মাঠের সৃজনশীল ফুটবল দীর্ঘদিন ধরেই শিশু-কিশোরদের আকর্ষণের কেন্দ্র। লামিন ইয়ামাল নিজেও একাধিকবার জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তিনি নেইমারের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। বড় ভাইয়ের সেই ভালোবাসার প্রভাব ছোট ভাইয়ের মধ্যেও পড়ে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
বাবা আলাদা, ইয়ামালের ভাই কেইন সম্পর্কে কতটা জানেন
বার্সেলোনার তারকারাও তালিকায়
কেইনের পছন্দের তালিকায় আছেন পেদ্রি ও রাফিনিয়া। দুজনই লামিন ইয়ামালের ক্লাব সতীর্থ। স্বাভাবিকভাবেই ভাইয়ের সঙ্গে অনুশীলন, ম্যাচ কিংবা উদযাপনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কেইনের পরিচয় হয়েছে। শিশুদের কাছে পরিচিত মুখই অনেক সময় প্রিয় হয়ে ওঠে।
বড় ভাইও তার নায়ক
সবচেয়ে আবেগের বিষয়টি হলো, প্রিয় ফুটবলারের তালিকায় নিজের বড় ভাই লামিন ইয়ামালও আছেন। বিশ্বকাপজুড়ে দুজনের সম্পর্ক ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। কখনো ভাইয়ের হাত ধরে মাঠে হাঁটা, কখনো ট্রফি নিয়ে একসঙ্গে ছবি তোলা, আবার কখনো ম্যাচ শেষে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরা এসব মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে লাখো মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে।
কেইন সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই জনপ্রিয়
অনেকেই বলছেন, কেইনের কাছে লামিন শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি একজন আদর্শও। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি বিষয়-তালিকায় লিওনেল মেসির নাম নেই। তবে এটিকে নিয়ে বাড়তি কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগও নেই। কারণ কেইনের বয়স মাত্র তিন বছর। এই বয়সে একটি শিশুর পছন্দ প্রতিদিনই বদলাতে পারে। আজ যে খেলোয়াড় তার প্রিয়, কয়েক মাস পর সেই তালিকায় অন্য কেউও চলে আসতে পারেন। তাই মেসির নাম না থাকাকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা তুলনার বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি কেবল একটি শিশুর বর্তমান পছন্দের তালিকা।
ফুটবলের পরিবেশেই বড় হচ্ছে কেইন
কেইনের শৈশব কাটছে ফুটবলের মধ্যেই। বড় ভাই বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার। বাড়িতে, স্টেডিয়ামে, অনুশীলনে সব জায়গাতেই ফুটবল তার নিত্যসঙ্গী। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুরা আশপাশের মানুষকে দেখেই আগ্রহ তৈরি করে। ফলে ভবিষ্যতে কেইনের মধ্যেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আরও বাড়তে পারে। তবে সে নিজে ফুটবলার হবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। একটি তিন বছরের শিশুর প্রিয় ফুটবলারের তালিকা হয়তো খুব বড় কোনো খবর নয়। কিন্তু ফুটবল এমনই এক খেলা, যেখানে ছোট ছোট গল্পও কোটি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন
লামিন ইয়ামালের দাদি ফাতিমার সংগ্রামের গল্প কাঁদাবে আপনাকেও
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত শিশুদের একজন হয়ে ওঠা কেইন এখনো মাঠে নামেনি। কিন্তু তার হাসি, উচ্ছ্বাস আর প্রিয় ফুটবলারদের ছোট্ট তালিকাই প্রমাণ করে, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা বয়সের ওপর নির্ভর করে না। কখনো কখনো তিন বছরের একটি শিশুও পুরো ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড সকার টক, সিবিএস
কেএসকে








