বিশ্বকাপের আগে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, সেটি এখনো পূরণ করতে পারেননি স্পেনের এই তরুণ উইঙ্গার। সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের কান্ডারি জেরেমি ডোকু। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও বেলজিয়াম মুখোমুখি। আলোচনায় ইয়ামাল ও ডোকুর ব্যক্তিগত দ্বৈরথ।

একজন স্পেনের আক্রমণের প্রাণভোমরা, আরেকজন বেলজিয়ামের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র। গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা আর মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য-সব মিলিয়ে আজকের মহারণে দুই তরুণ তারকার লড়াই হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের নিয়ামক। স্পেনের খেলার দর্শন বরাবরের মতো বলের দখল ধরে রেখে আধিপত্য বিস্তার করা। টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচে আক্রমণভাগে সবচেয়ে বেশি বল স্পর্শ করেছে স্পেন। যা তাদের ধারাবাহিক পজেশনভিত্তিক ফুটবলের প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে এই আধিপত্যকে গোলে রূপ দেওয়াই ছিল তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সমস্যার সমাধান হয়ে উঠেছেন ১৮ বছর বয়সি ইয়ামাল। তার গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং এবং শেষ তৃতীয়াংশে কার্যকর পাস প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলছে। এবারের বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে এক গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন এই স্প্যানিশ তারকা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইয়ামালের সবচেয়ে বড় বাধা গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া। ইয়ামাল বলেন, ‘মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে, আস্থা রাখে। এটা আমার ভালো লাগে। আমার আরও ভালো করার সুযোগ আছে। নিজের কাছে সব সময়ই অনেক বেশি প্রত্যাশা রাখি। এখন পর্যন্ত যা করেছি, তা আমার কাছে যথেষ্ট নয়। কখনোই বলিনি, আমি সন্তুষ্ট। বার্সেলোনার হয়ে এখনো আমার সব লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তাই জাতীয় দলের হয়েও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই।’

এদিকে বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় এক্স-ফ্যাক্টর জেরেমি ডোকু। ম্যানচেস্টার সিটির এই উইঙ্গার গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ ২৩৮টি বল এগিয়ে নিয়ে সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। তার অসাধারণ গতি যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ডোকুর ঝুলিতে রয়েছে দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট। পরিসংখ্যানের দিক থেকে ইয়ামাল কিছুটা এগিয়ে। ভিএস পারফরম্যান্স সূচকে ইয়ামালের স্কোর ৮৫.৯৩, ডোকুর ৬৭.৯৬। তবে ডোকুর বিস্ফোরক গতি ও সরাসরি আক্রমণভাগে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা তাকে ভয়ংকর করে তোলে। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুদলের এ দুই তরুণ তারকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথ হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।