লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় এক হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের এই জাতীয় উদ্যানে বিপন্ন উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, মায়া হরিণ, বনবিড়াল, অজগরসহ অসংখ্য প্রাণীর আবাস। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটকও এখানে আসেন। ফলে লাউয়াছড়ার গুরুত্ব শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতের সঙ্গেও যুক্ত। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে একাধিক মামলা করা হচ্ছে। লোকবল ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন। এসব বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সীমিত জনবল নিয়ে বিশাল বনাঞ্চল পাহারা দেয়া সহজ নয়। তবে নিয়মিত মামলা হওয়ার পরও যদি একই অভিযোগ বারবার ওঠে, তাহলে শুধু অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। কেন অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না, কোথায় নজরদারির ঘাটতি, আইন প্রয়োগে কী বাধা রয়েছে, তারও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। বন রক্ষায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি। বনভূমির দখলদার ও কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বন বিভাগের জনবল, যানবাহন ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়াতে হবে। স্থানীয় জনগণকে বন সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা জরুরি। অবৈধ দখল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাতে হবে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। বন রক্ষায় কাল ক্ষেপণের সুযোগ নেই। কার্যকর নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জবাবদিহিমূলক বন ব্যবস্থাপনাই পারে এই সংরক্ষিত বনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ রাখতে।