চট্টগ্রামের লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত শুরু হয়েছে। রোববার তদন্ত কমিটির সদস্যরা যেসব স্থানে অনিয়ম করে সংযোগ বা কেভি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সেসব স্থান ঘুরে দেখেছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সমিতির নিয়মানুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে ওই উপজেলার জোনাল কার্যালয়ে কর্মরত সব কর্মকর্তার কাছ থেকে লিখিত জবানবন্দি নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু তদন্ত কমিটির সদস্য ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য সংবলিত জবানবন্দি বাদ দিয়ে ‘প্রযোজ্য নয়’ বা ‘মতামত নেই’ উল্লেখ করে দেন। দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যায়। দুর্নীতিবাজরা বহাল তবিয়তে থেকে যান।
অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ১৯ জুন যুগান্তর অনলাইনে ‘সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, বিপাকে গ্রাহকরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ২১ জুন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাঁশখালী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম আতিকুর রহমানকে। আর সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছে চন্দনাইশ উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) ইমতিয়াহ মোহাম্মদ জাহিদকে।
এর আগেও লোহাগাড়া উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জিএম প্রকৌশলী দীলিপ চন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘দুর্নীতি বা অনিয়মের কারণে কোনো কর্মকর্তার শাস্তি হয়েছে এমন তথ্য আমার কাছে নেই। এটি গোপনীয় বিষয়। আমার কাছে আছে আমাদের গ্রাহক কত, কত টাকা বিল আদায় হলো এসব তথ্য।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, একজন সিনিয়র অফিসারের দুর্নীতির তদন্ত কমিটিতে তার চেয়ে জুনিয়র অফিসারকে রাখা সমীচীন নয়। তাদের উচিত ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বা আরইবি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত ছিল।’








