সঠিক কারিগরি জ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এক আদিবাসী নারী। উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া সাঁওতাল পল্লির রুজিনা টুডু এখন এলাকার অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। সমন্বিত সবজি চাষের মাধ্যমে তিনি অভাব জয় করে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, রুজিনা টুডু স্থানীয় ‘ময়না পাখি’ সেলফ রিলায়েন্স গ্রুপের সদস্য। গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) ও স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের ‘সিডস’ প্রকল্পের সহায়তায় তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নেন। এরপর নিজের জমিতে চালকুমড়ার মাচার নিচের ছায়াযুক্ত স্থানে সাথি ফসল হিসেবে আদা চাষ শুরু করেন। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বস্তায় আদা চাষ করেও তিনি অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন।রুজিনা টুডু জানান, তিনি কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেছেন। ফসলের ফলন ভালো হওয়ায় এবার বড় অঙ্কের মুনাফার আশা করছেন তিনি। তার এই উদ্ভাবনী পদ্ধতি দেখে এখন পল্লির অন্য নারীরাও সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।কৃষিতে এই সাফল্য রুজিনার পারিবারিক জীবনেও পরিবর্তন এনেছে। স্বামী নরেন টুডু ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার সুখের সংসার। এই আয়েই তিনি তার দুই সন্তানকে এইচএসসি পাস করিয়েছেন।সিডস প্রকল্পের কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, জলবায়ু সহনশীল শস্য চাষাবাদে নারীদের উদ্বুদ্ধ করতে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। রুজিনা টুডুর মতো নারীরা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছেন। স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গাইবান্ধার তিনটি উপজেলায় এই প্রকল্প প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।