‘মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও পুরো জাতির ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এ কথা বলেন। নোয়াখালী বন্ধুসভার সহযোগিতায় গত ২৬ জুন বিকেলে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে প্রথম আলো ট্রাস্ট। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বন্ধুসভার সদস্য এবং সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর সাবেক জেলা কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বাদল। তিনি বলেন, ‘মাদক আজ আমাদের তরুণসমাজের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

নোয়াখালী সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মো. রফিকউল্লাহ বলেন, ‘মাদকবিরোধী সচেতনতা শুধু একটি দিবসের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।’

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, ‘তরুণদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধও গড়ে তুলতে হবে।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নোয়াখালীর সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের মঞ্জু, নোয়াখালী বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও নারীনেত্রী লায়লা পারভীন। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালী বন্ধুসভার উপদেষ্টা মাহফুজের রহমান, আবদুল হালিম মিলন ও কামাল হোসেন।

বন্ধুদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আসিফ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সানি তামজিদ, সহসভাপতি মো. শিমুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন চন্দ্র কুরি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিদা ইসলাম, অর্থ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক শান্ত চন্দ্র দে, বইমেলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক নাফিস আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য রুমাইয়া সুলতানাসহ বন্ধুসভার সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সভাপতি, নোয়াখালী বন্ধুসভা