জাপানে মধুচন্দ্রিমা কাটাতে গিয়ে আকস্মিকভাবে কোমায় চলে যান যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের নববধূ সারাহ দানহ (২৭)। তবে সেই ঘটনার প্রায় তিন মাস পর প্রথমবারের মতো নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, তিনি হয়তো আর কখনো জেগে উঠবেন না। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে অতিক্রম করে এখন তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম ‘পিপল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ এপ্রিল স্বামী লুক গ্রাডলের (২৮) সঙ্গে জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনেই সারাহ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। যকৃৎ বিকল হয়ে যাওয়ায় তিনি কোমায় চলে যান এবং টোকিওর একটি হাসপাতালে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়।
দুই সপ্তাহ চিকিৎসার পর জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সারাহকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ২০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে ২১ এপ্রিল টেক্সাসে পৌঁছালেও তখনো তিনি কোমায় ছিলেন। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কের দুই অংশেই মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি হয়তো আর কখনো জ্ঞান ফিরে পাবেন না কিংবা হাঁটা-চলার সক্ষমতা ফিরে পাবেন না।
তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নিজে নিজে শ্বাস নিতে শুরু করেন। পরে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয় এবং মে মাসে হিউস্টনের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের পর তাঁর শারীরিক ও স্নায়বিক পুনর্বাসন শুরু হয়।
গত ৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে দেওয়া প্রথম পোস্টে সারাহ লেখেন, ‘সবার আগে বলি...আমি বেঁচে আছি।’ হাসপাতালের কয়েকটি ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি চিকিৎসক, পরিবার এবং অনুদানদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য খোলা গোফান্ডমি তহবিলে ১ লাখ ৮৭ হাজার ডলারের বেশি অনুদান উঠেছিল।
সারাহ জানান, জাপানে যাওয়ার আগেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, এটি কোভিড-১৯ হতে পারে। স্থানীয় একটি জরুরি বিভাগে গেলেও কোনো রক্ত পরীক্ষা করা হয়নি। চিকিৎসক তাঁকে বিশ্রাম নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং জ্বরের ওষুধ খেয়ে জাপান ভ্রমণ উপভোগ করার পরামর্শ দেন।
কিন্তু টোকিও পৌঁছানোর পর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। সারাহ লেখেন, বিমানে বমি করতে করতে তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না। সেই রাতেই তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন, শরীর হলুদ হয়ে যায় এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর যকৃৎ বিকল, হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি এবং রক্তে বিপজ্জনক মাত্রায় অ্যামোনিয়া ধরা পড়ে।
জাপানে বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তাঁর লিভার প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়নি। তাই চিকিৎসকেরা তাঁকে কোনোভাবে বিমানে ভ্রমণের উপযোগী করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর চেষ্টা করেন। দেশে ফেরার পর চিকিৎসকেরা মূলত তাঁর মস্তিষ্কের ক্ষতির চিকিৎসায় মনোযোগ দেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর যকৃৎ ধীরে ধীরে নিজেই সুস্থ হতে শুরু করে এবং মস্তিষ্কের ফোলাও কমে যায়। ২৯ এপ্রিল তিনি কোমা থেকে জেগে ওঠেন।
সারাহ বলেন, তিনি এখনো প্রতিদিন পুনর্বাসন চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তাঁর আকস্মিক অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে—জীবন অত্যন্ত ভঙ্গুর, আগামীকাল কখনো নিশ্চিত নয়, আর অলৌকিক ঘটনাও সত্যিই ঘটতে পারে।








