মাগুরার ওয়াবদা কালিনগর মধুমতি নদীতে পাট ধুতে দিতে গিয়ে পা পিছলে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ইয়াসিন মোল্লা (১৫) নামে এক কিশোরের মরদেহ একদিন পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

চাচার সামনেই নদীর পানিতে তলিয়ে যায় ইয়াসিন। চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি কাকা। পরে দীর্ঘ তল্লাশির পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ইয়াসিন তার চাচার সঙ্গে মধুমতি নদীতে পাট ধুতে যায়। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তার পা পিছলে নদীতে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কাকা তাকে ধরার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যেই পাটের জাকের নিচে তলিয়ে যায় ইয়াসিন।

নিহত ইয়াসিন মোল্লা কালিনগর গ্রামের শহর আলী মোল্লার ছেলে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

পরে ফরিদপুর থেকে ডুবুরি দল এসে সোমবার রাত পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালায়। কিন্তু সেদিন ইয়াসিনের কোনো খোঁজ মেলেনি।

পরদিন মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামারখালী-আড়পাড়া বালুঘাট এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় ইয়াসিনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

ইয়াসিন মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। নদীতে পাট ধুতে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আহমেদ বলেন, ‘কিশোর ইয়াসিন চাচার সঙ্গে পাট ধুতে দিতে গিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়। চাচা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা ও ফরিদপুর থেকে আসা ডুবুরি দলের তল্লাশির পরও রাতে তাকে পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে কামারখালী-আড়পাড়া বালুঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেজে/জেআইএম