মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (মেনা) অঞ্চলে শিশুদের জন্য ‘সুপারভাইজড কিড অ্যাকাউন্ট’ চালু করেছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে সন্তানরা ইউটিউবে কী ধরনের ভিডিও দেখবে, কতক্ষণ দেখবে এবং কোন কোন ফিচার ব্যবহার করতে পারবে—সেসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন অভিভাবকেরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) খালিজ টাইমস জানিয়েছে, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার পরই ইউটিউবের নতুন উদ্যোগ এল। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উপস্থিতি কমানোর লক্ষ্যেই দেশটির মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন ‘সুপারভাইজড কিড অ্যাকাউন্ট’ সরাসরি ইউটিউব অ্যাপের মধ্যেই যুক্ত করা হয়েছে। এতে অভিভাবকদের জন্য তিনটি ভিন্ন কনটেন্ট সেটিংস রাখা হয়েছে, যাতে সন্তানের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভিডিও দেখার সুযোগ নির্ধারণ করা যায়।

প্রথম সেটিংস ‘এক্সপ্লোর’-এ থাকবে শিক্ষামূলক ভিডিও, টিউটোরিয়াল, শিল্প ও কারুশিল্প এবং নাচসহ শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন কনটেন্ট। দ্বিতীয় সেটিংস ‘এক্সপ্লোর মোর’-এ এর সঙ্গে যুক্ত হবে গেমিং এবং লাইভ স্ট্রিমসহ আরও বিস্তৃত কনটেন্ট। আর তৃতীয় সেটিংস ‘মোস্ট অব ইউটিউব’-এ ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত বা শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত ভিডিও ছাড়া ইউটিউবের প্রায় সব ধরনের ভিডিও দেখা যাবে।

শিশুদের অতিরিক্ত সময় ধরে শর্ট ভিডিও দেখার প্রবণতা কমাতে নতুন অ্যাকাউন্টে ‘শর্টস ফিড টাইমার’ যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিভাবকেরা প্রতিদিন কতক্ষণ ইউটিউব শর্টস দেখা যাবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। চাইলে সময়সীমা শূন্য মিনিট নির্ধারণ করে শর্টস ফিড পুরোপুরি বন্ধও করে দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া নতুন অ্যাকাউন্টে আরও কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সময় পর বিরতি নেওয়ার স্মরণ করিয়ে দেওয়া, ঘুমানোর সময় মনে করিয়ে দেওয়া, ভিডিও আপলোড বা নতুন কনটেন্ট তৈরি করার সুবিধা বন্ধ রাখা, মন্তব্য লেখার সুযোগ নিষ্ক্রিয় করা এবং ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু (অটোপ্লে) না হওয়ার ব্যবস্থা।

ইউটিউব জানিয়েছে, এসব শিশু অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনও দেখানো হবে না।

এর আগে মেনা অঞ্চলে ‘সুপারভাইজড টিন অ্যাকাউন্ট’ চালু করেছিল ইউটিউব। কিশোরদের জন্য তৈরি ওই সুবিধায় অভিভাবক ও সন্তানের অ্যাকাউন্ট সহজে সংযুক্ত করা যায়। পাশাপাশি কিশোর ব্যবহারকারী কোনো ভিডিও আপলোড করলে বা লাইভ স্ট্রিম শুরু করলে অভিভাবকের কাছে ই-মেইল নোটিফিকেশন যায়। এ ছাড়া সন্তানের ইউটিউব চ্যানেলের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও অভিভাবকেরা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন।