মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আগামীতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক চারটি সংস্থা। এতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। পাশাপাশি এর ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতাও বাড়তে পারে। যে কারণ পুরো বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ), আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) যৌথ বিবৃবিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই বিবৃতি দিয়েছে। এর আগে সংস্থাগুলোর প্রধানরা একটি বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করতে গত এপ্রিলে এই সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি গ্রুপ গঠন করা হয়।

বিবৃতিতে সংস্থা চারটি উল্লেখ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা লাগার পরও এতদিন বৈশ্বিক অর্থনীতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে কিছু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। অনেক দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বৈশ্বিকভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ওই চার সংস্থার প্রধানরা চলমান সংঘাতের সমাধান ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য আরও অগ্রগতি প্রত্যাশা করছেন। গত জুনে তাদের বৈঠকের পর বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি ও সারের দাম কমেছে। তবে অনিশ্চয়তা এখনো অনেক বেশি। জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো চাপের মুখে। এখনই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্ক হওয়া উচিত। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাধীনভাবে জাহাজ চলাচলের সুযোগ রাখা উচিত। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা, মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সমুন্নত রাখতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আগামীতে যে কোনো ধাক্কা এলে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় এবং ঝুঁকির প্রবণতা কম থাকে।

চার সংস্থার প্রধানরা বলেছেন, জ্বালানি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি জোরদার করা হবে।