খুলনায় একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীর পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, দিনমজুর বাবা ছেলে মিরাজুল ইসলামকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু মাদ্রাসার মুহতামিম শিশুটিকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্য করতেন। এতে আপত্তি জানালে তাকে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হতো।
শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, তাঁর ছেলে প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসত। গতকাল রোববার বিকেলে ছেলেকে আনতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মাদ্রাসার এক কক্ষের ভেতর তার পায়ে শিকলবন্দি অবস্থায় দেখতে পান।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মুহতামিম মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে আটক করে। পরে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার রাতেই শিশুটির মা রত্না বেগম বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারায় মামলা করেন। পরে ওই মামলায় মাদ্রাসার মুহতামিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান বলেন, রোববার রাতে শিকলবন্দি অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।








