মাগুরার শ্রীপুরে প্রতিবেশীদের হামলায় গুরুতর আহত আমিরুল মোল্যা (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের সোয়া শতডাঙ্গা গ্রামে অন্তত ১০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। ভাঙচুর ও সহিংসতার খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোয়া শতডাঙা গ্রামের আমিরুল মোল্যার সঙ্গে প্রতিবেশী আবুজার মন্ডল, তবিবর মন্ডল ও ফরিদ বিশ্বাসের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন আমিরুল মোল্যার বাড়িতে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। স্বজনরা আমিরুল মোল্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্যামলী ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এই হামলার ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মোল্যা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আমিরুল মোল্যার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় এলাকায় সালামত বিশ্বাস, মোসলেম বিশ্বাস, আবুল বিশ্বাস ও হাসান বিশ্বাসের বাড়িসহ অন্তত ১০টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোসলেম বিশ্বাস বলেন, `আকস্মিক আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ও গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।'
নিহত আমিরুল মোল্যার ছোট ভাই আব্দুল মোল্যা বলেন, `আমরা শুধু আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই। গভীর রাতে কারা কার বাড়িঘরে ভাঙচুর বা লুটপাট করেছে, সেই বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এই ভাঙচুরের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।'
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।








