কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া বালু উত্তোলনের দায়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নাম টোকিও-এমআইএলকে (জেভি)। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে গত রোববার শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সংস্থাটির চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোনিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে বলা হয়, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতিসাধনের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ধার্য করা ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বালু উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাকসেস রোড নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএলকে (জেভি)। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে মহেশখালী চ্যানেল-মহেশখালী উপকূলের ঠাকুরতলা ও হামিদারদিয়া মৌজা থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি কিছু শর্তসাপেক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেয়। অভিযোগ উঠেছে, বালু উত্তোলনের অনুমতি পাওয়ার পর পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ছাড়াই মহেশখালী চ্যানেল ও উপকূল থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া ১৩টি শর্তের অধিকাংশই মানা হচ্ছে না।