উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন রাজনারায়ণ দত্ত ও জাহ্নবী দেবীর একমাত্র সন্তান। তেরো বছর বয়সে মধুসূদন কলকাতায় যান। স্থানীয় একটি স্কুলে কিছুদিন পড়ার পর তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। এ সময় থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন বিলেত যাওয়ার। তাই তিনি খিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তার নামের আগে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। কিন্তু হিন্দু কলেজে খ্রিষ্টানদের অধ্যয়ন নিষিদ্ধ থাকায় মধুসূদনকে কলেজ ত্যাগ করতে হয়। তাই ১৮৪৪ সালে তিনি বিশপ্স কলেজে ভর্তি হন এবং ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত সেখানে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি ইংরেজি ছাড়াও গ্রিক, লাতিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখার সুযোগ পান। কলেজে পড়াশোনা করার সময়ই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন।

কলেজের পাঠ শেষ করার পর কলকাতায় চাকরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মধুসূদন। কয়েকজন মাদ্রাজি ছাত্রের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। তাদের সঙ্গে তিনি ভাগ্যান্বেষণে যান মাদ্রাজ (অধুনা চেন্নাই)। কিন্তু সেখানে বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেননি। স্থানীয় খ্রিষ্টান ও ইংরেজদের সহায়তায় তিনি একটি স্কুলে ইংরেজি শিক্ষকের চাকরি পান। তবে বেতন যা পেতেন, তাতে তার চলত না। এ সময় তিনি ইংরেজি পত্রপত্রিকায় লিখতে শুরু করেন। ‘মাদ্রাজ ক্রনিকল’ পত্রিকায় ছদ্মনামে তার কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে।

১৮৬২ সালের ৯ জুন মধুসূদন ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ১৮৬৩ সালে তিনি ফ্রান্সের প্যারিস হয়ে ভার্সাই নগরীতে যান এবং সেখানে প্রায় দুবছর অবস্থান করেন। ভার্সাইতে অবস্থানকালে তিনি ইতালীয় কবি পেত্রার্কের অনুকরণে বাংলায় সনেট লিখতে শুরু করেন। এর আগে বাংলা ভাষায় সনেটের প্রচলন ছিল না। তার সনেটগুলো ১৮৬৬ সালে চতুর্দশপদী কবিতাবলী নামে প্রকাশিত হয়।

ভার্সাই নগরীতে দুবছর থাকার পর মধুসূদন আবার ইংল্যান্ড যান এবং ১৮৬৬ সালে গ্রেজ-ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করেন। ১৮৬৭ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায় যোগ দেন। কিন্তু ওকালতিতে সুবিধা করতে না পেরে ১৮৭০ সালে হাইকোর্টের অনুবাদ বিভাগে যোগদান করেন। দুবছর পর এ চাকরি ছেড়ে তিনি আবার আইন ব্যবসা শুরু করেন। এবার তিনি সফল হন, কিন্তু অমিতব্যয়িতার কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও মধুসূদন কাব্যচর্চা অব্যাহত রাখেন। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত তার ১২টি এবং ইংরেজি ভাষায় ৫টি গ্রন্থ রয়েছে।

১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহাকবি কপর্দকহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।