মাঝ আকাশে রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী প্লেনের জানালার অংশ খুলে যাওয়ায় এক যাত্রী প্রায় বাইরে ছিটকে যাচ্ছিলেন। তবে তার স্ত্রী ও অন্য যাত্রীরা দ্রুত তাকে ধরে ফেলায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনের উদ্দেশ্যে উড়েছিল রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইট। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর হঠাৎ বিমানটি প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। এ সময় যাত্রীরা বিকট শব্দ শুনতে পান।
যাত্রীরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, জানালার অংশ খুলে যাওয়ার পর ৬১ বছর বয়সী এক সার্বিয়ান যাত্রী কোমর পর্যন্ত জানালার বাইরে ঝুলে পড়েন। তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে তার পা শক্ত করে ধরে রাখেন। পরে অন্য যাত্রীরা মিলে তাকে ভেতরে টেনে আনেন।
আহত ওই যাত্রীকে থেসালোনিকির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শরীরে ঘর্ষণজনিত আঘাত রয়েছে। তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন, তবে তার জ্ঞান রয়েছে।
রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানের একটি যাত্রীর জানালার অংশ খুলে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে এবং নিরাপদে অবতরণ করে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প বিমান ব্যবস্থা করা হয়।
কয়েকজন যাত্রীর দাবি, ইঞ্জিনের কোনো অংশের ধ্বংসাবশেষ জানালায় আঘাত করায় এটি খুলে যায়। তবে এ বিষয়ে রায়ানএয়ার কোনো মন্তব্য করেনি।
গ্রিসের বিমান নিরাপত্তা তদন্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সহযোগিতা করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত বিমানচালক ক্রিস ব্র্যাডি বলেন, ওই যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা ছিল বলেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। তাই উড্ডয়নের পুরো সময় যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম








