আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে যশোরসহ দেশের ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার যশোর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের আয়োজনে ভার্চুয়াল যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বেগম মাহমুদা খাতুন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মামলার জট কমানো, অযথা ও হয়রানিমূলক মামলা হ্রাস এবং প্রাক্-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে।
আসাদুজ্জামান জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার জট অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং তিন মাস পর এ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বেগম মাহমুদা খাতুন বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আদালতের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত, সহজ ও কম খরচে ন্যায়বিচার পাবেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত সাত ধরনের বিরোধ বা অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মেডিয়েশনের উদ্যোগ নিতে হবে। এর মধ্যে পারিবারিক আদালত আইন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, দেওয়ানি আদালতের নির্দিষ্ট বিরোধ, ভূমিসংক্রান্ত কয়েকটি আইন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ও যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাভুক্ত বিরোধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ড. আতোয়ার রহমান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার নিশাত সুলতানা, স্পেশাল মিডিয়েটর গাজী রহমান, বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আইনি সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুলাই থেকে দেশের যশোর, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রম চালু হয়েছে।








