মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং খেলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ নিশ্চিত করতে ছোটবেলা থেকেই এ সব খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। ফলে নানা সংকটের মধ্যেও শিশুরা শিখতে পারবে এবং নিজেদের সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক আয়োজিত সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটসের (স্প্ল্যাশ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। এছাড়া লেগো ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক আলামি অনুষ্ঠানে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্বে ৪৭ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু সংঘাত ও মানবিক সংকটপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে এবং তাদের মধ্যে ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। তাদের শিক্ষা, সুরক্ষা এবং মানসিক ও সামাজিক সহায়তার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের পাঁচ বছর মেয়াদি ৫ কোটি মার্কিন ডলারের এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উগান্ডায় মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত চার লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে শিশুদের লালন-পালন ও বিকাশে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশে এ অংশীদারত্বের প্রথম ধাপ স্প্ল্যাশ জুন ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এতে জন্মের পর থেকে ১৮ বছর বয়সিদের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।
এ সহায়তার মধ্যে রয়েছে শিশুদের চাহিদা বুঝে যত্ন নেওয়া, আশ্রয়শিবিরে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে খেলাভিত্তিক প্রারম্ভিক শিক্ষা, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণে সহায়তা এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য অব্যাহত শিক্ষা, জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা মেন্টরশিপের সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা ও সার্বিক বিকাশে অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভূমিকা আরো শক্তিশালী করা হবে।
এছাড়া ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শংকর, বিআইইডির কর্মসূচি প্রধান সৈয়দা সাজিয়া জামান, শিক্ষা কর্মসূচির কর্মসূচি প্রধান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির লিড মেহেদী হাসান, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির কর্মসূচি সমন্বয়ক ডা. এস. এম. হাসানুজ্জামান প্রমুখ অনুষ্ঠানের বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।
ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন (গ্লোবাল) কর্মসূচির প্রধান ডা. রাফিয়াত রশীদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অংশীজনের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।








