শেষ বাঁশি বাজতেই শিষ্যদের জড়িয়ে ধরে কানাডার কোচ জেসি মার্শের চিৎকার, ‘তোমরাই কান্ডার আসল নায়ক। কানাডিয়ান হিরো।’ ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে কানাডার স্বপ্নপূরণের নায়ক হয়ে উঠলেন যিনি, সেই স্টিভেন ইউস্টাকিওর গায়ে ঝুলছে এক অদৃশ্য ট্যাগ ‘মেড ইন পর্তুগাল’! একজন পর্তুগিজ উত্তরাধিকার বহনকারী গত পরশু রাতে কানাডার ফুটবল ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে কানাডা। একে একে দারুণ পাঁচটি সেভে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পথে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্বপ্ন ভাঙে বাফানা বাফানাদের। ডি-বক্সের বাইরে পাওয়া বল বুক দিয়ে নামিয়ে দুর্দান্ত হাফ ভলিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জাল কাঁপিয়ে নায়ক হয়ে গেলেন ইউস্টাকিও।
কানাডার ২৯ বছর বয়সি মিডফিল্ডাকে এই ম্যাচের আগে খুব বেশি মানুষ চিনতেন না। এখন তাকে নিয়ে কানাডিয়ানদের পাশাপাশি পর্তুগিজরাও গর্বিত। ইউস্টাকিওর জন্ম কানাডায় হলেও তার মা-বাবা পর্তুগিজ। অভিবাসী হয়ে তারা কানাডায় গিয়েছিলেন। সাত বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে পর্তুগালে ফিরে যান ইউস্টাকিও। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা এবং ফুটবলে হাতেখড়ি। পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে সাতটি ম্যাচও খেলেছেন। কিন্তু ২০১৯ সালে জাতীয় দল হিসাবে তিনি বেছে নেন নিজের জন্মভূমি কানাডাকে। এ বছরের শুরুতে মেজর লিগ সকারে পাড়ি জমানোর আগে পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোয় খেলতেন ইউস্টাকিও। পোর্তো ছাড়ার আগে জোড়া শোকে তার ব্যক্তিগত জীবন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। ২০২৩ সালের এপ্রিলে তার মা এসমেরালদাকে হারানোর ১৩ মাস পর মারা যান তার বাবা আরমান্দো।
কঠিন সেই সময় পেরিয়ে কানাডার ‘নাম্বার সেভেন’ ইউস্টাকিও এখন বিশ্বকাপের নায়ক।
ম্যাচ শেষে নিজের ইতিহাস গড়া গোলটি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘শটটি নেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন কানাডার সব মানুষও আমার সঙ্গে শট নিচ্ছে। সবাই যেন শটে একটু একটু করে শক্তি যোগ করে দিচ্ছে। এরপরই বল জালে জড়িয়ে গেল।’ এ সময় তার চোখ ছলছল করছিল। গোলটি প্রয়াত মা-বাবা ও পরিবারকে উৎসর্গ করেছেন ইউস্টাকিও। তিনি বলেন, ‘আমি যাই করি-সব আমার বাবা-মা, বান্ধবী, আমার মেয়ে ও ভাই এবং বন্ধুদের জন্য। আমার সব কিছু আমার পরিবারের জন্য।’
কানাডার ফুটবল ইতিহাসের বাঁক বদলের নায়ককে প্রশংসায় ভাসিয়ে কোচ জেসি মার্শ বলেছেন, ‘স্টিভেন এমন একজন মানুষ, যার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করা যায়। এমন একটি মুহূর্ত সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য ছিল তারই। আমার বিশ্বাস, স্বর্গ থেকে তার বাবা-মা তাকিয়ে ছিলেন এবং তারা এই দৃশ্য দেখে অনেক খুশি হয়েছেন।’








