মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালো মো. তুহিনুজ্জামান (৩৪) নামের এক সৌদি প্রবাসীর। তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের মধ্য ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রশাসনিক ও কনস্যুলার প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবের হাইল শহরে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে যান তুহিনুজ্জামান। সেখানে একদিন এসি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার সময় ওপর থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৭ মে মারা যান।

মৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী ফরিদা খাতুন, আট বছর বয়সী মেয়ে তাকিয়া খাতুন তামান্না এবং দুই বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল তাওসীফকে রেখে গেছেন।

দীর্ঘ প্রশাসনিক ও কনস্যুলার প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তুহিনুজ্জামানের মরদেহ। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ গ্রহণ করেন তার স্ত্রী ফরিদা খাতুন।

মরদেহবাহী কফিনটি সামনে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। স্বামীর কফিন জড়িয়ে ধরে বিলাপ করতে থাকেন ফরিদা খাতুন। স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দরের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ফরিদা খাতুন বলেন, ‌‘মানুষটা বলেছিল, আর কয়েক বছর কষ্ট করলেই সংসারের সব অভাব দূর হবে। সন্তানদের জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়বে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।’

গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তুহিনুজ্জামানকে দাফন করা হবে বলে পরিবার থেকে জানানো হয়েছে।

হোসাইন আহম্মেদ সুলভ/এসআর