তৃতীয় দিন—
আজকে সবকিছুতে তাড়াহুড়া। আজকেই শেষ রজনী এই আরেক জাদুর শহরে। নিউইয়র্ক ছাড়ব বলে সকাল সকাল হালকা নাশতা করে বের হলাম বন্ধুর বাসা থেকে। হেঁটে সাবওয়ে গিয়ে সেখান থেকে জ্যাকসন হাইটসের স্টেশন। এই স্টেশন একটা জংশনের মতো। এখান থেকে অনেক পথে যাওয়া যায়। আমরা যাব মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম বা মেট জাদুঘরে। এক ঢিলে দুই পাখি, এর কাছাকাছি সেন্ট্রাল পার্ক আর বড়লোকদের রাস্তা ফিফথ অ্যাভিনিউ বা মিলিয়নিয়ার রো। তাই যাওয়ার পথে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশন হয়ে যাওয়া ঠিক করলাম, এক ঢিলে তিন পাখি খতম। গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হলো জংশন, যেখানে অনেকগুলো মেট্রোরেল এসে মিলেছে। দেখতে গ্র্যান্ড আর ছাদটা এতটাই উঁচু যে কেমন রাতের তারা ভরা আকাশের মতো লাগে। গত দিনের অকুলাসের মতো বিশাল। সুন্দর। এটা দেখতে অনেক পর্যটক আসে। আসারই কথা, চমৎকার!
এখান থেকে আমরা মেট্রোরেল বা সাবওয়ে দিয়ে মেট জাদুঘরের কাছাকাছি একটা স্টেশনে নেমে সামান্য হেঁটে মেট জাদুঘরে উপস্থিত হলাম। সকালেই ভিড়, আজকে রবিবার বলে হয়তো।
টিকিট ভালোই দামি। ৩০ ডলার প্রতিজন। কী আর করা। আমি দেখেছি, এ দেশে সামান্য কফি আর আইসক্রিম পাঁচ থেকে আট ডলার, অথচ ইউরোপে গত বছরও পেয়েছি দুই-তিন ইউরোতে। তাদের স্বাদ–গন্ধ আরও ভালো। আর আবার এখানে ক্রেডিট কার্ডে বিল দিতে গেলেই টিপস চলে আসে। কী বিপদ? না দিলেও যে চাহনি। লজ্জা লাগে। কী যে বেকায়দা অবস্থা!
আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে দিয়ে টিকিট কেটে দেখা শুরু করলাম জাদুঘরের প্রদর্শনী। দেখলাম স্কুলপড়ুয়ারা এসেছে অনেক আর অনেক আমাদের মতো অভিবাসী। এদের জ্ঞানের তৃষা দেখার মতো আর জাদুঘরটার সংগ্রহ আসলেই ভালো, ক্যাটালগিংটাও ভালো। দূরপ্রাচ্য হতে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা আর দক্ষিণ আমেরিকা বেশ ভালোভাবে এসেছে, এমনকি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সংগ্রহ চোখে পড়ার মতো। আমাদের হাতে সময় কম। শুধু একনজরে দেখতে দেখতেও চার ঘণ্টা লেগে গেল। আমরা বের হয়ে জাদুঘর লাগোয়া সেন্ট্রাল পার্কে ঢুকে গেলাম। আজ রোদ উঠেছে, সেই খুশিতে নিউইয়র্কবাসী পার্কে ভিড় করেছে অনেক। আমরা একটা ম্যাপ নিয়ে এদিক-ওদিক করে বেশ অনেকটা দেখে ফেললাম অনেকটা জাদুঘরের মতো করে।
বসন্ত মাত্র এসেছে, পাতাহীন গাছগুলোতে কচি কুঁড়ি আসতে শুরু করেছে মাত্র। আমাদের ধারণা, আগামী সপ্তাহে এগুলো সবুজে সবুজে সয়লাব হয়ে যাবে। পার্কের এক পাশে ইরান যুদ্ধ নিয়ে চিল–চিৎকার, আরেক পাশে আইস স্কেটিংয়ে ব্যস্ত দুনিয়ার লোকেরা। এতটুকু স্কেটিং রিংকে এত লোক!
মার্কিন মুলুকে সফর কাহিনি—১ম পর্ব: ঢাকা থেকে নিউইয়র্কআমরা হেঁটে ফিফথ অ্যাভিনিউ লাগোয়া মাঝের তোরণ দিয়ে বের হয়ে অ্যাপলের ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের মাটির নিচে খোঁড়া সুন্দর দোকানে ঢুঁ মারলাম। নতুন কিছু সেট এসেছে, আমি গত পরশু নতুন সেট কিনেছি, তাই বহু কষ্টে নিজেকে সংবরণ করলাম। এরপর হাঁটাহাঁটির পালা। এখানে লুই ভিটোর দোকানটা বেশ মজার, একটা স্যুটকেসের মতো দেখতে এটার বহিরাবরণ। মজার।
আমরা ওপরে এসে উঠে দাঁড়ালাম এক চেরিগাছের নিচে। এখানে আসার সময় একজনের জন্য কিছু দেশের জিনিস নিয়ে এসেছিল আমার সহভ্রমক, সেই ভদ্রলোক আমাদের সেখান থেকে তুলে নিয়ে সামান্য দূরের আমাদের বন্ধুর বাসায় পৌঁছে দিয়ে বিদায় নিলেন।
এরপর আমরা জায়গাটার আশপাশে ইতিউতি করে ইতালিয়ান পিৎজা খাওয়ার জন্য বেশ চেষ্টা করেও কোনো পিজ্জারিয়া না পেয়ে একটা ফরাসি দোকানে মজার নারিকেল দেওয়া মাফিনসহযোগে কিছুমিছু খেলাম।
এরপর কিছুক্ষণ গুলতানি মেরে বন্ধুর বাসার দিকে রওনা দিলাম। আমাদের আরও কিছু জায়গা দেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এতটা পরিশ্রান্ত ছিলাম যে আর পা চলছিল না। আমাদের স্টেশনে এসে বাসায় যাওয়ার পথে চা–শিঙাড়া আর হালকা খেয়ে নিলাম সাবওয়ে স্টেশনের লাগোয়া দেশি দোকান থেকে।
সন্ধ্যার পর বন্ধু আমাদের নিউইয়র্ক ঘোরাতে বের হলো। গাড়িটা জ্যাকসন হাইটসের কাছে আসতেই বৃষ্টি শুরু হলো। কী দুর্ভাগ্য! আমরা তার গাড়িতে করে রাতের নিউইয়র্ক দেখব বলে যে আশা করেছিলাম, তাতে গুড়ে বালি। বৃষ্টির যা তেজ, অল্প কিছু দেখে রাতের নিউইয়র্ক ফেলে বাসায় ফিরে এসে দিলাম দুনিয়ার আড্ডা। আড্ডায় আড্ডায় রাত পার। প্রায় ভোর।

চতুর্থ দিন—
সকাল সকাল মালপত্র গুছিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই মালপত্র নিয়ে কাছের সেই সাবওয়ে থেকে ময়নাহিন এমট্রেক স্টেশনে গেলাম। এখান থেকেই আমাদের ওয়াশিংটন ডিসির ট্রেন ছাড়বে। বাপ রে, এই স্টেশনও দেখি পুরোনো আর সুন্দর। বিশাল আর নতুন করে সবকিছু মেরামত করা হয়েছে। এখান থেকে ট্রেন বোস্টন যায়। দেখলাম অনেক ছাত্রছাত্রী আমাদের ট্রেন ছাড়ার আগের বোস্টনের ট্রেনের বিশাল সারিতে দাঁড়িয়ে। আমরাও পাশের সারিতে দাঁড়িয়ে ট্রেনে চড়ে রওনা দিলাম ওয়াশিংটন ডিসির দিকে।
ট্রেনটাও বেশ প্রশস্ত। সিটে পা ছড়িয়ে বসে আরাম।
তিন ঘণ্টার মধ্যে এটা ওয়াশিংটন ডিসির ইউনিয়ন স্টেশনে পৌঁছাল। ট্রেনের যাত্রাপথের দুপাশ ছিল একদম সাধারণ। অথচ আমরা এবারের মার্কিন সফরের শেষ দিকে ক্যালিফোর্নিয়াতে যে এমট্রেক ভ্রমণ করেছিলাম, সেটার দুপাশের দৃশ্য ছিল অসাধারণ।

যাহোক, ওয়াশিংটনে আরেক বন্ধুর বাসায় উঠব, তবে সে বিকেলে অফিস ছুটির পর আমাদের তুলে নেবে। তাই দুপুরটা কাটানোর জন্য মার্কিন সংসদ ভবন বা ক্যাপিটল লাগোয়া এক পার্কে অবস্থান নিলাম। আবহাওয়া ভালো, চারদিকে চেরি ফুলের মেলা। চেরিগাছে থরে থরে ফুটে থাকা সাদা ফুল দেখে বিমোহিত। আমি অন্য এক মার্চের শেষ দিকে চায়নার হ্যাংঝোতে এক হ্রদের মাঝে এ রকম চেরি ব্লজম দেখেছিলাম। সেটা এক যুগ আগের কথা। জাপানের বিখ্যাত সাকুরাখ্যাত চেরিফুলের গাছগুলো কিন্তু এই হ্যাংঝো থেকেই নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমি গোলাপি চেরিও দেখেছিলাম। এ শহরগুলো অবশ্য সব সাদা আর প্রথম দিককার গাছগুলো উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে জাপান থেকে সেই শত বছর আগে।
আমরা যখন চেরি ফুল দেখে দেখে বিমোহিত, ঠিক সে সময় শত শত স্কুলপড়ুয়া আমাদের সঙ্গে উপভোগ করতে হাজির হলো এ পার্কে। অন্য রকম ব্যাপারস্যাপার। ফুলের সৌন্দর্য দেখেটেখে আবারও ইউনিয়ন স্টেশনে ফেরার পথে এক ইতালিয়ান পিজ্জারিয়া থেকে প্রায় ৩০ ডলার দিয়ে পিৎজা খেয়ে উদরপূর্তি করতে গিয়ে পকেটে ফাঁকা হয়ে গেল।
শেষ বিকেলে বন্ধু আমাদের সাবওয়ে বা মেট্রোরেলে করে তার বাসার পাশের স্টেশনে যেতে বললে আমরা সেই ইউনিয়ন স্টেশনের পাতালপুর থেকেই হাজির হলাম বেশ দূরের বেথেসডা শহরে।
বন্ধু স্টেশনে গাড়ি নিয়ে হাজির।
বাসাতে গিয়েই বিরাট দাওয়াতের পাল্লায় পড়তে হলো। এত্ত আয়োজন, কীভাবে এত কিছু খাব? খেয়েদেয়ে শরীর আর চলছিল না। শেষমেশ দিলাম ঘুম। এক ঘুমে রাত পার।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

পঞ্চম দিন—
সকালে উঠেই বন্ধু আর ভাবির পাল্লায় পড়ে খানাপিনার মহাযজ্ঞে শামিল হতে হলো। প্রবাসীরা আমাদের খাওয়াতে খাওয়াতে মোটা বানিয়ে ফেলছে। সেই বিশালবপু নিয়ে বের হলাম ওয়াশিংটন ডিসির দ্রষ্টব্য দেখতে। দিনটা সুন্দর, হালকা শীতল বাতাস ঝকঝকে রোদে আমাদের কাবু করতে পারেনি।
আমরা একে একে ক্যাপিটাল আর সুপ্রিম কোর্ট দেখতে দেখতে আরেক পুরোনো স্কুলের বন্ধু হাজির। তার সঙ্গে দেখা হলো সেই এসএসসি পর। কত্ত দিন। খাইছে। সে তার গাড়িতে করে আমাদের নিয়ে গেল হোয়াইট হাউসে। দুর্ভাগ্যবশত হোয়াইট হাউসের সামনের পার্ক বন্ধ, কী এক মেরামতযজ্ঞ চলছে, ভালো করে ছবিও তোলা যায় না।
শেষমেশ আমাদের লিংকন মেমোরিয়ালে নিয়ে এল। সেখানে আব্রাহাম লিংকনের বিশাল মূর্তি দেখেটেখে আমরা গেলাম যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের কবরস্থান ‘আরলিংটন সেমেটারি’তে। সেটার নিশ্চুপতা উপভোগ শেষে হাজির হলাম ‘মল’ নামের বিশাল বিস্তৃত এক খোলা জায়গায়। এরপর সেটা দেখা শেষে আমরা দুপুরে খাওয়ার জন্য পেন্টাগনের পাশ ঘেঁষে বিশালাকৃতির শপিং মলে এসে বসলাম। এখানে আমরা ‘চিপলে’ নামের মেক্সিকোর ফাস্ট ফুড দোকানে মজার সব খাবার খেলাম। খাওয়া শেষে বন্ধু আমাদের আবারও মল নামের জায়গায় নামিয়ে বিদায় নিল।
আমরা সেখান থেকে ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস’ জাদুঘরে গেলাম। বিশাল জাদুঘর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শীতল যুদ্ধ হতে আজ অবধি যত যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশতরি আর আকাশযান তৈরি বা ব্যবহৃত হয়েছে, তার সব নমুনা এখানে আছে। এসব দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার স্কুলপড়ুয়া হাজির। আমরা চাঁদে যে নীল আর্মস্ট্রং নেমেছিল, সেই চন্দ্রযান থেকে শুরু করে কত্ত নতুন–পুরোনো আকাশযান যে ছিল তার ইয়ত্তা নেই। সেটা দেখে গেলাম পাশের ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারিতে। বিশাল সংগ্রহ। মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ব্যাপারস্যাপার। অনেক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সেসব দেখতে দেখতে কখন যে বিকেল পার, তা খেয়াল করিনি।

আমরা তাই তাড়াহুড়া করে পাশের স্মিথসোনিয়ান ন্যাচারাল হিস্ট্রি জাদুঘরে যে–ই না ঢুকব, এরা বলল যে সেদিনের মতো সময় শেষ। তখন ঘড়ির কাঁটায় বিকেল পাঁচটা।
ন্যাচারাল হিস্ট্রি জাদুঘর মিস হওয়ায় মন খারাপ। শেষে মল চত্বরের পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে হাজির হলাম ওয়াশিংটন মনুমেন্টের নিচে। এই বিশাল অবেলিস্কর পাদদেশে পা ঝুলিয়ে বসে বন্ধুর বাসা থেকে আনা খাবার আর দুপুরের মেক্সিকান খাবারের শেষাংশ খেতে খেতে দূরের হোয়াইট হাউসের দৃশ্য দেখতে বেশ ভালোই লাগছিল। এভাবে যখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছিল, আমরা মলের নরম ঘাসের ওপর দিয়ে বেশ অনেকটা রাস্তা হেঁটে ইউনিয়ন স্টেশনের কাছে এলাম, তখন আচমকা মোবাইলের চার্জ চলে গেল। আমরা ঘাবড়ে গেলাম। চেনা পথ অচেনা লাগছিল। অফিস ছুটি হওয়ায় লোকজনের আনাগোনা কমে পার্কগুলো প্রায় জনশূন্য। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ধোপদুরস্ত পোশাকআশাকে আবৃত দুই বয়স্ক মার্কিন ভদ্রলোককে স্টেশনর নিশানা জিজ্ঞেস করতে তাঁরা বেশ ত্রস্ত হয়ে আমাদের সাহায্য করতে উঠেপড়ে লাগলেন। বেচারারাও এ শহরে আমাদের মতোই নতুন, এসেছেন দাপ্তরিক কাজে। শেষে অনেক জিপিএস ঘেঁটে আমাদের পথ দেখিয়ে বিদায় নিলেন তাঁরা। আমরাও খোশমেজাজে দুলকিচালে হেঁটে ইউনিয়ন স্টেশনে পৌঁছে পাতালপুর থেকে পাতাল রেলে চলে এলাম বন্ধুর বাসার কাছের ন্যাশনাল মেডিক্যাল সেন্টারের পাতাল মেট্রোরেল স্টেশনে। সেটা থেকে খোলা চত্বরে উঠতে দুই–তিন শ ফুট খাড়া চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে উঠতে যে কারও ভয় লাগবে।

আমরা ওপরে এসে উঠে দাঁড়ালাম এক চেরিগাছের নিচে। এখানে আসার সময় একজনের জন্য কিছু দেশের জিনিস নিয়ে এসেছিল আমার সহভ্রমক, সেই ভদ্রলোক আমাদের সেখান থেকে তুলে নিয়ে সামান্য দূরের আমাদের বন্ধুর বাসায় পৌঁছে দিয়ে বিদায় নিল। অনেক সাধাসাধি করছিল খাওয়াতে, কিন্তু আজ ওয়াশিংটন ডিসির শেষ রজনীতে বন্ধুর সঙ্গে রাতের দাওয়াত না খেলে পরেরবার ভ্রমণে এলে এ বাসায় জায়গা হবে না, এ ঝুঁকি না নিয়ে এসেই বসে গেলাম খানাপিনার মহাযজ্ঞে।
ঘুমের বেশি সুযোগ পাওয়া গেল না। কারণ, সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার বিমান ভোর পাঁচটায়। বিমানবন্দরে যেতে হবে এর ঘণ্টাখানেক আগে। আর সেটা বাসা থেকে প্রায় ঘণ্টা দূরত্বে। আমরা শেষ রাতে বন্ধুর গাড়িতে গল্প করতে করতে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালাম। চারদিকে কুচকুচে অন্ধকার। আমাদের বিমান শিকাগোতে ছোট্ট যাত্রাবিরতি দিয়ে সানফ্রান্সিসকো যেতে যেতে দুপুর ১২টা হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে এ যাত্রা, ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুল পর্যন্ত দূরত্ব।
সানফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে অপেক্ষায় আছে আমাদের আরেক বন্ধু। সে গল্প পরের পর্বে।








