বরিশালের মুলাদীতে পৌর এলাকায় দীর্ঘদিনের ত্রুটিপূর্ণ একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো এলাকা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মুলাদী পৌরসভার রেইনট্রিতলা এলাকায় ওয়ালটন ও মার্সেল শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মার্সেল ইলেকট্রনিকসের মালিক নিজাম উদ্দীন রাড়ী জানান, রেইনট্রিতলা এলাকার মার্সেল ইলেকট্রনিকস দোকানের ওপরে থাকা ওই বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটিতে দীর্ঘদিন ধরে সংযোগজনিত ত্রুটি ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের এই উদাসীনতা ও অবহেলার কারণেই অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্রান্সফরমারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
আগুন লাগার পরপরই রেইনট্রিতলা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা সাহসিকতার সঙ্গে দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা বিদ্যুৎ বিভাগে ফোন করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করান এবং নিজেদের দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর মুলাদী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার প্রায় এক ঘণ্টা পর তাদের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে স্থানীয়দের চেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস পরিদর্শক মো. সজিবুর রহমান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল লক্ষ্মীপুর এলাকায় পানিতে পড়া স্কুলছাত্রী উদ্ধারে ব্যস্ত ছিল। পরে সেখান থেকে একটি দল ফিরে রেইনট্রিতলা এলাকায় পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মুলাদী জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. বেলায়েত হোসেন ত্রুটিপূর্ণ ট্রান্সফরমার থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে, ত্রুটি হতে পারে। আগে থেকে ট্রান্সফরমারটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল কি না—এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই ট্রান্সফরমার পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।








