রায়পুরায় ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে এক উপকারভোগীর প্রদর্শনী ব্যানারে ভিন্ন ইউনিয়নের একটি অস্তিত্বহীন গ্রামের নাম ঠিকানা হিসাবে উল্লেখ করায় প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৬ জন মৎস্যচাষিকে জনপ্রতি পাঁচ বস্তা মাছের খাদ্য, ছয়টি করে গাছের চারা এবং একটি করে প্রদর্শনী ব্যানার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচিত চারজন মৎস্যচাষিকে একটি করে এরেটরও বিতরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, উপকারভোগী জরিনা বেগমের প্রদর্শনী ব্যানারে তার ঠিকানা হিসাবে আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, আমিরগঞ্জ ইউনিয়নে হোসেনপুর নামে কোনো গ্রামের অস্তিত্ব নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, জরিনা বেগমের প্রকৃত বাড়ি পার্শ্ববর্তী পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেও আমিরগঞ্জ ইউনিয়নে হোসেনপুর নামে কোনো গ্রামের তথ্য পাওয়া যায়নি। জরিনা বেগমও সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, তার বাড়ি পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামে। এ ঘটনায় উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্য যাচাই এবং সরকারি নথি প্রস্তুতের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সরকারি প্রকল্পের উপকারভোগীর তথ্য ব্যানারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর এটি যদি কেবল তথ্যগত বা টাইপিংজনিত ভুলও হয়ে থাকে, তবে ব্যানার প্রস্তুতের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই কেন করা হয়নি-সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, তথ্যগত অসংগতির কারণ নির্ণয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ব্যক্তি ঠিক আছেন, তবে নাম বা ঠিকানায় হয়তো ভুল হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।








