মৌলভীবাজারে এবারের বন্যায় প্রায় পাঁচ শতাধিক হেক্টর জমির ফসল ও পাঁচ শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ এনে মাছের খামার করেছেন কৃষক ও মৎস্য চাষিরা। বন্যায় ফসলের ক্ষতি ও মাছ ভেসে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, জেলায় উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার ২৮ টি ইউনিয়নে বন্যা হয়। বন্যার পানিতে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি খেত পানিতে তলিয়ে পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

একই সঙ্গে বন্যায় ফিশারির মাছ ভেসে যায়। মৎস্য খামারিরা শত চেষ্টা করেও মাছ আটকে রাখতে পারেননি। মৌসুমের শুরুতে নতুন করে মাছের পোনা ফিশারি গুলোতে অবমুক্ত করা হলেও তা বন্যার পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

মৌলভীবাজারে বন্যায় ৫০০ হেক্টর ফসল ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় ৩৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়। এছাড়া ৩ হাজার ৭৯ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে ৮৬ হেক্টর ও ২৩৬ হেক্টর সবজির মধ্যে ৬৫ হেক্টর প্লাবিত হয়েছে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বন্যায় জেলায় প্রায় ৪০৫টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখনও ক্ষয়ক্ষতির পুরো তালিকা করা হয়নি।

রাজনগর উপজেলার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার দুই একর জমির আউশ ফসল পচে নষ্ট হয়ে গেছে। দুই একর জমিতে আমার প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।’

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের মৎস্য খামারি ওয়াজিদ মিয়া বলেন, ‘৭০ হাজার টাকার পোনামাছ পুকুরে ফেলেছিলাম, বন্যায় সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া ছোট-বড় মাছও ভেসে গেছে।

মৌলভীবাজারে বন্যায় ৫০০ হেক্টর ফসল ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘জেলায় প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার মাছ বন্যায় ভেসে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।’

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘জেলায় বন্যায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমির আউশধান ও ৮৬ হেক্টর আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও ৬৫ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে।

মাহিদুল ইসলাম/কেজে/এএসএম