বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ১ নম্বর সদর আলীকদম ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩ জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের (মিয়ানমার নাগরিক) ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশি ভোটার করার অভিযোগে তাদের বরখাস্ত করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন- আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, ১ নম্বর সদর আলীকদম ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ জাকের হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদুল মতিন।

গত ১২ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্ৰণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি-১ শাখার উপ সচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু, বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলাধীন ১ নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের উক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি ২০২৫-এ রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে ভুয়া নাগরিক সনদ ও রোহিঙ্গা নয় মর্মে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়।

এছাড়া জাতীয়তা ও পরিচয় সংক্রান্ত ভুয়া ও অসংগতিপূর্ণ কাগজপত্র সৃজনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা, অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি কার্যকলাপে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় বলে মনে করে সরকার।

সেহেতু তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থি ফলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ (৪) এর (খ) ও (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম বলেন, এটি সাময়িক বরখাস্ত, চূড়ান্ত বরখাস্ত নয়। তাদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখনো কাউকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি৷ জেলা প্রশাসক যে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নয়ন চক্রবর্তী/এনএইচআর/জেআইএম